ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ Logo কচুয়ায় মঘিয়া ইউনিয়ন আন্তঃ ওয়ার্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী Logo পরিক্ষায় নকল করায় এক বছরের জন্য বহিষ্কার রাবির সিনেট সদস্য আকিল Logo পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাসহ ৫ দফা দাবি শিবিরের Logo বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার ১১ বছরের যমজ ভাই তানভীর-তাফসীর Logo অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ও বিদ্যুৎ অপচয়ের মিথ নিয়ে জাবিতে আলোচনা সভা Logo নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট এবং কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে Logo গোবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান Logo সিরিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিলো যুক্তরাষ্ট্র Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের তিন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমির হোসেন।

গত ১৬ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন অন্তু দাস, মোহাম্মদ হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সরোয়ার হোসেন রিয়াদ আমির হোসেন, অপূর্ব ও ইউসুফ ইকবালকে তার কক্ষে ডাকেন। সেখানে রিয়াদ, হাসান ও অন্তু আমিরকে রাত ৩টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে র‍্যাগ দেয়। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আমির লুঙ্গি পরে ওই কক্ষে যাওয়ায় তাকে ন্যাংটা করে পুরো হল ঘোরানোর হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা তাকে বারবার মারতে উদ্যত হন। ভয়ে আমির বারবার ক্ষমা চাইলেও এবং নিজের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথা জানালেও র‍্যাগিং বন্ধ করা হয়নি। একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে তিনি অভিযুক্তদের কক্ষ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী আমির হোসেন বলেন, ‘আমাকে রুমে ডেকে নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত র‍্যাগিং করেছে তারা। এ সময় অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বারবার মারতে তেড়ে আসে। আমি ক্ষমা চাইলেও তারা র‍্যাগিং বন্ধ করেনি। একসময় আর সহ্য করতে না পেরে রুম থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসি।’

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর আমির নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্তু দাসকে মুঠোফোনে হুমকি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তু কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আমিরের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত ২০ আগস্ট থানার এসআই জিয়াউর রহমান আমিরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আমির তাকে পুরো ঘটনা জানালে এসআই তাকে পাল্টা জিডি করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে আমির বলেন, ‘চার মাস আগে আমার বাবা মারা যান। আমি টিউশন করিয়ে নিজের পড়াশোনা ও যাবতীয় খরচ চালানোর পাশাপাশি বাড়িতেও টাকা পাঠাই। এসব কারণে আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। ওই রাতের ঘটনার পর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। সারা রাত ঘুমাতে না পেরে কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এতে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ঘটনার পরের দিন অন্তুকে ফোন করে হুমকি দিই। তবে তাকে হুমকি দেওয়ার পেছনে কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য ছিল না।’

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে জানালে তিনি ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন।

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে বসেছি এবং তাদের কাউন্সেলিং করেছি। যেহেতু এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের বিষয় ছিল, তাই বিভাগের সিনিয়র ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা আমাকে জানিয়েছিল, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। তবে আজ জানতে পারলাম, ওই শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমার পক্ষ থেকে যা করার ছিল, আমি করেছি।’

অভিযুক্ত অন্তু দাস বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। র‍্যাগিংয়ের মতো সেখানে কিছুই হয়নি। সে হয়তো ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। বরং সে আমাদের রুম থেকে যাওয়ার সময় খুব বাজে ব্যবহার করে যায়।’

জিডি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমির আমাকে তার ভাইয়ের মাধ্যমে হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি থানায় জিডি করেছি।’

এ বিষয়ে এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ কিছুদিন আগে অন্তু দাস নামে একজন শিক্ষার্থী একটি অনলাইন জিডি করেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাকে ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়েই অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী।’

তিনি বলেন, ‘আমি তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত আমিরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি অন্তু দাসসহ তিনজন মিলে তাকে র‍্যাগ দিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলমান রয়েছে।
তবে এটি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরিন বিষয় প্রক্টরিয়াল বডি থেকে যদি সমাধান করা হয় সবচেয়ে ভালো হবে।

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। হলে ওঠার বিষয় নিয়ে তারা আমার রুমে এসেছিল। সে যেসব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, সেগুলো মিথ্যা।’

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী সরোয়ার হোসেন রিয়াদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে আমি সহযোগিতা করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগপত্র আমরা পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জনপ্রিয়

কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ

কুবির হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিং, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ

প্রকাশিত ১১:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের তিন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমির হোসেন।

গত ১৬ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন অন্তু দাস, মোহাম্মদ হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সরোয়ার হোসেন রিয়াদ আমির হোসেন, অপূর্ব ও ইউসুফ ইকবালকে তার কক্ষে ডাকেন। সেখানে রিয়াদ, হাসান ও অন্তু আমিরকে রাত ৩টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে র‍্যাগ দেয়। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আমির লুঙ্গি পরে ওই কক্ষে যাওয়ায় তাকে ন্যাংটা করে পুরো হল ঘোরানোর হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা তাকে বারবার মারতে উদ্যত হন। ভয়ে আমির বারবার ক্ষমা চাইলেও এবং নিজের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথা জানালেও র‍্যাগিং বন্ধ করা হয়নি। একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে তিনি অভিযুক্তদের কক্ষ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী আমির হোসেন বলেন, ‘আমাকে রুমে ডেকে নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত র‍্যাগিং করেছে তারা। এ সময় অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বারবার মারতে তেড়ে আসে। আমি ক্ষমা চাইলেও তারা র‍্যাগিং বন্ধ করেনি। একসময় আর সহ্য করতে না পেরে রুম থেকে দৌড়ে পালিয়ে আসি।’

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর আমির নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্তু দাসকে মুঠোফোনে হুমকি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তু কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আমিরের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত ২০ আগস্ট থানার এসআই জিয়াউর রহমান আমিরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আমির তাকে পুরো ঘটনা জানালে এসআই তাকে পাল্টা জিডি করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে আমির বলেন, ‘চার মাস আগে আমার বাবা মারা যান। আমি টিউশন করিয়ে নিজের পড়াশোনা ও যাবতীয় খরচ চালানোর পাশাপাশি বাড়িতেও টাকা পাঠাই। এসব কারণে আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। ওই রাতের ঘটনার পর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। সারা রাত ঘুমাতে না পেরে কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এতে ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ঘটনার পরের দিন অন্তুকে ফোন করে হুমকি দিই। তবে তাকে হুমকি দেওয়ার পেছনে কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য ছিল না।’

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে জানালে তিনি ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন।

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে বসেছি এবং তাদের কাউন্সেলিং করেছি। যেহেতু এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের বিষয় ছিল, তাই বিভাগের সিনিয়র ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা আমাকে জানিয়েছিল, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। তবে আজ জানতে পারলাম, ওই শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দিয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমার পক্ষ থেকে যা করার ছিল, আমি করেছি।’

অভিযুক্ত অন্তু দাস বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। র‍্যাগিংয়ের মতো সেখানে কিছুই হয়নি। সে হয়তো ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। বরং সে আমাদের রুম থেকে যাওয়ার সময় খুব বাজে ব্যবহার করে যায়।’

জিডি করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমির আমাকে তার ভাইয়ের মাধ্যমে হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি থানায় জিডি করেছি।’

এ বিষয়ে এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ কিছুদিন আগে অন্তু দাস নামে একজন শিক্ষার্থী একটি অনলাইন জিডি করেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাকে ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়েই অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী।’

তিনি বলেন, ‘আমি তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত আমিরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি অন্তু দাসসহ তিনজন মিলে তাকে র‍্যাগ দিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলমান রয়েছে।
তবে এটি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরিন বিষয় প্রক্টরিয়াল বডি থেকে যদি সমাধান করা হয় সবচেয়ে ভালো হবে।

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘র‍্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। হলে ওঠার বিষয় নিয়ে তারা আমার রুমে এসেছিল। সে যেসব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, সেগুলো মিথ্যা।’

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী সরোয়ার হোসেন রিয়াদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে আমি সহযোগিতা করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগপত্র আমরা পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’