ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দুই হলের সংঘর্ষের জেরে সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে মারধরের অভিযোগ Logo জাবির ২২ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ৩২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন Logo কুবিতে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ ছাত্রশক্তির ৫ দফার স্মারকলিপি Logo হাবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি Logo কুবিতে দুই ছিনতাইকারী আটক, মুচলেকায় মুক্তি Logo “শিবির প্রতিটি ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা ও সাইবার বুলিং করছে” -নাছির Logo জুলাইয়ে জাবিতে হাসিনার ছবি অপসারণের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের বিবৃতি, দুইদিন পরই ক্ষমতাচ্যুত Logo উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাকৃবিতে দুই হলে মাঝে সংঘর্ষ, আহত ৫ Logo বুটেক্সে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের গুঞ্জন Logo আবাসিক হলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কুবি উপাচার্যের কাছে শিবিরের পাঁচ দফা দাবি

ইবির ওরিয়েন্টেশনের খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৫:০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৯১ বার পঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুই পর্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দুপুরে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা। তবে নিম্নমান, টক হয়ে যাওয়া ও নষ্ট চাল-ডাল পরিবেশনের কারণে সেই খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে নবীনদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন মোট ১৪টি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি ‘আপ্যায়ন উপ-কমিটি’ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে খাবারের বাজেট ধরা হয়েছিল ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে পরবর্তীতে তা কমিয়ে ভ্যাটসহ প্রতি প্যাকেট খাবারের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই বাজেটে ৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট খাবার কুষ্টিয়ার ‘ধোঁয়া রেস্টুরেন্ট’ থেকে কিনে বিভাগে বিভাগে সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, এই রেস্টুরেন্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ও সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক পরিচালনা করেন।

খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চারুকলা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কাছে আসা খাবারটি অত্যন্ত বাজে ছিল এবং বিভাগের কেউ তা খেতে পারেনি। তারা উল্লেখ করেন, বাজারদর অনুযায়ী এই খাবারের মান সর্বোচ্চ ১৮০ টাকার বেশি হতে পারে না।

একই অভিজ্ঞতা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাল একেবারেই খাওয়া যায়নি এবং ডাল ফেটে বা পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে সামান্য মুখে দিলেও পুরো খাবারটা কেউই শেষ করতে পারেনি। তাদের মতে, বাইরে এই মানের খাবারের দাম সর্বোচ্চ ১০০ টাকা হতে পারে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, চাল ঠিকমতো ফুটেনি বা সেদ্ধ হয়নি, আর ডাল ছিল টক। সার্বিকভাবে খাবারের মান ছিল একদমই নিম্নস্তরের, যা বাইরে কিনতে গেলে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা লাগতে পারে।

একইভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, চাল-ডালের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তারা পেট ভরে খেতেই পারেননি। একমাত্র রোস্ট ছাড়া বাকি সব কিছুই অযোগ্য ছিল। এমনকি ডিমটা কিছুটা ভালো থাকলেও টক ডালের ভেতর থাকার কারণে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে খাবারও ঠিকমতো খাওয়া হয়নি, আবার সময়মতো বাসায়ও ফেরা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার প্রথম দিনেই এমন নিম্নমানের খাবার সরবরাহের ঘটনায় নবীন শিক্ষার্থীদের আনন্দের অভিজ্ঞতা ফিকে হয়ে গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই সমালোচনা চলছে।

জনপ্রিয়

দুই হলের সংঘর্ষের জেরে সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে মারধরের অভিযোগ

ইবির ওরিয়েন্টেশনের খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত ০৫:০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুই পর্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দুপুরে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা। তবে নিম্নমান, টক হয়ে যাওয়া ও নষ্ট চাল-ডাল পরিবেশনের কারণে সেই খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে নবীনদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন মোট ১৪টি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি ‘আপ্যায়ন উপ-কমিটি’ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে খাবারের বাজেট ধরা হয়েছিল ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে পরবর্তীতে তা কমিয়ে ভ্যাটসহ প্রতি প্যাকেট খাবারের মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই বাজেটে ৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট খাবার কুষ্টিয়ার ‘ধোঁয়া রেস্টুরেন্ট’ থেকে কিনে বিভাগে বিভাগে সরবরাহ করা হয়। উল্লেখ্য, এই রেস্টুরেন্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ও সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক পরিচালনা করেন।

খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চারুকলা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কাছে আসা খাবারটি অত্যন্ত বাজে ছিল এবং বিভাগের কেউ তা খেতে পারেনি। তারা উল্লেখ করেন, বাজারদর অনুযায়ী এই খাবারের মান সর্বোচ্চ ১৮০ টাকার বেশি হতে পারে না।

একই অভিজ্ঞতা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাল একেবারেই খাওয়া যায়নি এবং ডাল ফেটে বা পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে সামান্য মুখে দিলেও পুরো খাবারটা কেউই শেষ করতে পারেনি। তাদের মতে, বাইরে এই মানের খাবারের দাম সর্বোচ্চ ১০০ টাকা হতে পারে।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, চাল ঠিকমতো ফুটেনি বা সেদ্ধ হয়নি, আর ডাল ছিল টক। সার্বিকভাবে খাবারের মান ছিল একদমই নিম্নস্তরের, যা বাইরে কিনতে গেলে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা লাগতে পারে।

একইভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, চাল-ডালের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তারা পেট ভরে খেতেই পারেননি। একমাত্র রোস্ট ছাড়া বাকি সব কিছুই অযোগ্য ছিল। এমনকি ডিমটা কিছুটা ভালো থাকলেও টক ডালের ভেতর থাকার কারণে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে খাবারও ঠিকমতো খাওয়া হয়নি, আবার সময়মতো বাসায়ও ফেরা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার প্রথম দিনেই এমন নিম্নমানের খাবার সরবরাহের ঘটনায় নবীন শিক্ষার্থীদের আনন্দের অভিজ্ঞতা ফিকে হয়ে গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই সমালোচনা চলছে।