ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দুই হলের সংঘর্ষের জেরে সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে মারধরের অভিযোগ Logo জাবির ২২ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ৩২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন Logo কুবিতে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ ছাত্রশক্তির ৫ দফার স্মারকলিপি Logo হাবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি Logo কুবিতে দুই ছিনতাইকারী আটক, মুচলেকায় মুক্তি Logo “শিবির প্রতিটি ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থা ও সাইবার বুলিং করছে” -নাছির Logo জুলাইয়ে জাবিতে হাসিনার ছবি অপসারণের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের বিবৃতি, দুইদিন পরই ক্ষমতাচ্যুত Logo উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাকৃবিতে দুই হলে মাঝে সংঘর্ষ, আহত ৫ Logo বুটেক্সে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের গুঞ্জন Logo আবাসিক হলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কুবি উপাচার্যের কাছে শিবিরের পাঁচ দফা দাবি

প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন

পাবনায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন | ছবি : অভিযাত্রা রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার ও জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, পাবনা’।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটি পাবনার যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হোসেন শিমুল, পাবনা সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ কবির তন্ময় এবং সাংবাদিক মোবারক হোসেন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুলাই ঐক্য পরিষদ পাবনার সদস্য আবদুল্লাহ আল-নোমান।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমানের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, খালেদ হোসেন পরাগ তার প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেল করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হামলা ও হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। এ ছাড়া সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেকার যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, দিলালপুর এলাকার মো. আবদুল নাহিদ মিয়া মিথুন নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির একটি হিসাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হতো।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সরকারের পাশাপাশি বিএনপির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। তারা খালেদ হোসেন পরাগ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খালেদ হোসেন পরাগ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোথায়, কার কাছ থেকে, কবে কত টাকা চাঁদাবাজি করেছি বা কার জমি দখল করেছি—এর একটি প্রমাণও তারা দেখাতে পারবে না।’

পরাগ দাবি করেন, বালিশকাণ্ডসংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয় সামনে আনার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি তাতে সাড়া না দেওয়ায় এখন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

দুই হলের সংঘর্ষের জেরে সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে মারধরের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন

প্রকাশিত ১১:৪০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার ও জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, পাবনা’।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমান, জাতীয় নাগরিক কমিটি পাবনার যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হোসেন শিমুল, পাবনা সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ কবির তন্ময় এবং সাংবাদিক মোবারক হোসেন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জুলাই ঐক্য পরিষদ পাবনার সদস্য আবদুল্লাহ আল-নোমান।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ইমামুর রহমানের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, খালেদ হোসেন পরাগ তার প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেল করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হামলা ও হত্যা মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। এ ছাড়া সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেকার যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, দিলালপুর এলাকার মো. আবদুল নাহিদ মিয়া মিথুন নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির একটি হিসাবে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হতো।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সরকারের পাশাপাশি বিএনপির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। তারা খালেদ হোসেন পরাগ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খালেদ হোসেন পরাগ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোথায়, কার কাছ থেকে, কবে কত টাকা চাঁদাবাজি করেছি বা কার জমি দখল করেছি—এর একটি প্রমাণও তারা দেখাতে পারবে না।’

পরাগ দাবি করেন, বালিশকাণ্ডসংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয় সামনে আনার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি তাতে সাড়া না দেওয়ায় এখন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।