ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo ইস্টার্ন ব্যাংক এর সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে মেটলাইফ Logo চট্টগ্রামে রবির ‘এলিট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, যুক্ত হলো নতুন অংশীদার Logo ইরানে আবারও হিজাব বিতর্ক, খোলা চুলে রাস্তায় নারীরা Logo পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন Logo কুবির নজরুল হলে সাময়িক বহিষ্কৃতদের সিটে ছাত্রদলকর্মীদের ওঠানোর অভিযোগ, জানে না প্রশাসন Logo বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন বেড়ে ১১০ কোটি টাকা Logo ভারতে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ‘বাংলাদেশি’ যুবক গ্রেপ্তার Logo ঢাকায় ম্যাচ খেলতে পারে ব্রাজিল, প্রতিপক্ষ হতে পারে বাংলাদেশও Logo প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন

ইরানে আবারও হিজাব বিতর্ক, খোলা চুলে রাস্তায় নারীরা

ইরানের তেহরানে একটি ফুটপাথ ধরে খোলা চুলে হেঁটে যাচ্ছেন ইরানি তরুণীরা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আর যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ইরানে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাধ্যতামূলক হিজাব সংক্রান্ত বিতর্ক। কিছু দিন আগেও রাষ্ট্রীয় সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে হিজাববিহীন নারীদের উপস্থিতি চোখ এড়ায়নি কারও। তবে সংকট কিছুটা থিতু হতেই আবারও নিজেদের পুরোনো কঠোর অবস্থানে ফিরতে চাইছে দেশটির রক্ষণশীল গোষ্ঠী ও নীতিনির্ধারকেরা।

সম্প্রতি রাজধানী তেহরান ও দক্ষিণ খোরাসানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে একের পর এক ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও ফ্যাশন বুটিকে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন। বাদ যাননি শিল্পীরাও, সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে জনপ্রিয় গায়িকা পরস্তু আহমাদী ও তার ব্যান্ডের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কাইহান পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি এ পদক্ষেপকে স্রেফ ‘আইনি ও ধর্মীয় দায়িত্ব’ হিসেবে দেখলেও সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ছে গভীরভাবে।

আইনের এমন কড়াকড়ি সত্ত্বেও পিছপা হচ্ছেন না তরুণীরা। তেহরান কিংবা সিরাজের রাজপথে এখন প্রায়ই হেলমেট পরা কিন্তু হিজাবহীন তরুণীদের স্বাধীনভাবে স্কুটার ও মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। এ দৃশ্য এখন সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

হিজাব ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের ভিতরেও তৈরি হয়েছে বিভাজন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জবরদস্তিমূলক আইনের মাধ্যমে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের কৌশলের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য গোলামআলী জাফরজাদেহ বিমানাবাদি মনে করেন, হিজাব নিয়ে পড়ে না থেকে সরকারের এখন মূল নজর দেওয়া উচিত লাগামহীন মূল্যস্ফীতি আর মানুষের জীবিকার ওপর। অন্যদিকে এর ঠিক বিপরীত যুক্তি দিয়েছেন পার্লামেন্ট সদস্য মোহাম্মদ-তাকি নকদালি। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির চেয়েও এই ধরনের সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দেশের জন্য বহুগুণে বিপজ্জনক।

রাজনীতিবিদদের এ তর্কের মাঝে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বেঁধেছে গভীর আশঙ্কা। তেহরানের এক প্রবীণ নারী স্মৃতিচারণ করে বলেন, হয়তো আমরা যা ভাবছি তা হবে না, তবে বিপ্লবের পরও আমরা ভাবিনি হিজাব বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হবে, কিন্তু তারা তা করেছিল। তার এই আশঙ্কাই স্পষ্ট করে দেয়, বাইরের যে কোনো সংঘাতের চেয়েও দেশের ভেতরের এ সামাজিক টানাপোড়েন ইরানিদের জন্য কতটা বাস্তব।

সূত্র: সিএনএন

জনপ্রিয়

২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানে আবারও হিজাব বিতর্ক, খোলা চুলে রাস্তায় নারীরা

প্রকাশিত ১০:০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আর যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ইরানে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাধ্যতামূলক হিজাব সংক্রান্ত বিতর্ক। কিছু দিন আগেও রাষ্ট্রীয় সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে হিজাববিহীন নারীদের উপস্থিতি চোখ এড়ায়নি কারও। তবে সংকট কিছুটা থিতু হতেই আবারও নিজেদের পুরোনো কঠোর অবস্থানে ফিরতে চাইছে দেশটির রক্ষণশীল গোষ্ঠী ও নীতিনির্ধারকেরা।

সম্প্রতি রাজধানী তেহরান ও দক্ষিণ খোরাসানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে একের পর এক ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও ফ্যাশন বুটিকে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন। বাদ যাননি শিল্পীরাও, সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে জনপ্রিয় গায়িকা পরস্তু আহমাদী ও তার ব্যান্ডের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কাইহান পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি এ পদক্ষেপকে স্রেফ ‘আইনি ও ধর্মীয় দায়িত্ব’ হিসেবে দেখলেও সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ছে গভীরভাবে।

আইনের এমন কড়াকড়ি সত্ত্বেও পিছপা হচ্ছেন না তরুণীরা। তেহরান কিংবা সিরাজের রাজপথে এখন প্রায়ই হেলমেট পরা কিন্তু হিজাবহীন তরুণীদের স্বাধীনভাবে স্কুটার ও মোটরসাইকেল চালাতে দেখা যাচ্ছে। এ দৃশ্য এখন সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

হিজাব ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের ভিতরেও তৈরি হয়েছে বিভাজন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জবরদস্তিমূলক আইনের মাধ্যমে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের কৌশলের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য গোলামআলী জাফরজাদেহ বিমানাবাদি মনে করেন, হিজাব নিয়ে পড়ে না থেকে সরকারের এখন মূল নজর দেওয়া উচিত লাগামহীন মূল্যস্ফীতি আর মানুষের জীবিকার ওপর। অন্যদিকে এর ঠিক বিপরীত যুক্তি দিয়েছেন পার্লামেন্ট সদস্য মোহাম্মদ-তাকি নকদালি। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির চেয়েও এই ধরনের সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দেশের জন্য বহুগুণে বিপজ্জনক।

রাজনীতিবিদদের এ তর্কের মাঝে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বেঁধেছে গভীর আশঙ্কা। তেহরানের এক প্রবীণ নারী স্মৃতিচারণ করে বলেন, হয়তো আমরা যা ভাবছি তা হবে না, তবে বিপ্লবের পরও আমরা ভাবিনি হিজাব বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হবে, কিন্তু তারা তা করেছিল। তার এই আশঙ্কাই স্পষ্ট করে দেয়, বাইরের যে কোনো সংঘাতের চেয়েও দেশের ভেতরের এ সামাজিক টানাপোড়েন ইরানিদের জন্য কতটা বাস্তব।

সূত্র: সিএনএন