দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। গত জুলাইয়ে বাধ্যতামূলক ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১ জুলাই থেকে চালুর পর শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন সম্পন্ন হতো। এসব লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তবে গত এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের গড় সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ থেকে বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও বাংলা কিউআর সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, বর্তমানে বাংলা কিউআর মূলত দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক লেনদেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তরেও এই পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন কার্যকর করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় কিউআর কোডের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুয়া কিউআর তৈরি বা কিউআর কোডের তথ্য পরিবর্তন করে প্রতারণার সুযোগ বন্ধ করতে পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিটি লেনদেনের সময় পেমেন্ট সুইচের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে এই তথ্য যাচাই করা হবে। ফলে কিউআর কোড পরিবর্তন করে বা ভুয়া তথ্য সংযুক্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমে আসবে।






























