ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত নবজাতকের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই তার মূল বাবা বলে প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসেকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই মামলাটির বিচারকার্য চূড়ান্তভাবে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর এলাকায় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসাতেই পড়াশোনা করত।

গত ১৮ এপ্রিল শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আদালতের নির্দেশে তাকে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরবর্তীতে সিআইডি নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠালে শিক্ষক আমান উল্লাহর সঙ্গে তার ডিএনএ নিখুঁতভাবে মিলে যায়।

জনপ্রিয়

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত নবজাতকের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত নবজাতকের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

প্রকাশিত ০৭:০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই তার মূল বাবা বলে প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার আশা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসেকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল জানান, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকই নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই মামলাটির বিচারকার্য চূড়ান্তভাবে শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর এলাকায় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসাতেই পড়াশোনা করত।

গত ১৮ এপ্রিল শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আদালতের নির্দেশে তাকে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরবর্তীতে সিআইডি নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠালে শিক্ষক আমান উল্লাহর সঙ্গে তার ডিএনএ নিখুঁতভাবে মিলে যায়।