ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

নুসরাত হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন

নুসরাত জাহান রাফি

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। অন্যদিকে আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ অন্য আইনজীবীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় সিরাজ উদদৌলাসহ অভিযুক্ত ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আসামিদের সাজা অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় একই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নৃশংস এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

প্রসঙ্গত, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার সাজা অনুমোদন ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। সেই বিশেষ বেঞ্চেই শুনানি শেষে আজ নুসরাত হত্যা মামলার এই চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হলো।

জনপ্রিয়

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত নবজাতকের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক

নুসরাত হত্যায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত ০৩:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। অন্যদিকে আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ অন্য আইনজীবীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় সিরাজ উদদৌলাসহ অভিযুক্ত ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আসামিদের সাজা অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় একই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নৃশংস এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

প্রসঙ্গত, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার সাজা অনুমোদন ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। সেই বিশেষ বেঞ্চেই শুনানি শেষে আজ নুসরাত হত্যা মামলার এই চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হলো।