বেলজিয়ামে চলতি বছরের জুন থেকে এখন পর্যন্ত তীব্র দাবদাহে প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারি জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সিয়েনসানোর এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফরাসি ভাষার সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম আরটিবিএফ (RTBF)-এর বরাতে জানা যায়, গ্রীষ্মের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের চরম গরমে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর ফলে চলতি মৌসুমে তাপপ্রবাহ চলাকালীন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৯৩৫ জনে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় ধাপের তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। এই সময়ে অতিরিক্ত ৫৩৫ জন মানুষ নিহত হয়। অঞ্চলের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ফ্ল্যান্ডার্সে।
সেখানে ৩১০ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ওয়ালোনিয়ায় ১৯৮ এবং রাজধানী ব্রাসেলসে ৪২ জন মারা যান। পরবর্তীতে ২৮ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী তৃতীয় ধাপের তাপপ্রবাহে নতুন করে ৩৬৫ জনের মৃত্যু হয়।
তবে পুরো গ্রীষ্মের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ দিন ছিল ২৭ জুন। সিয়েনসানোর হিসেব অনুযায়ী, কেবল ওই দিনেই সারা দেশে ৬৪১ জন মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১৪৬.৫ শতাংশ বেশি।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তীব্র গরমের ধাক্কা কেবল প্রবীণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত মৃত্যুহার পরিলক্ষিত হয়েছে।
তাপপ্রবাহের সময় এ অস্বাভাবিক মৃত্যুহারের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বেশ কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেছে সংস্থাটি। দীর্ঘ সময় ধরে চরম তাপমাত্রা বজায় থাকা, গরম ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া এবং ওজোন স্তরে দূষণের বৃদ্ধি মানুষের স্বাস্থ্যকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বারবার এমন রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা বেলজিয়ামে দীর্ঘস্থায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

























