ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কোমরে টাকা দেখেই হত্যার পরিকল্পনা Logo অপরাধ নিয়ে কথা বলতেন টিভিতে, নিজেই পেলেন ফাঁসির সাজা! Logo মোজা ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকছে, যা করবেন Logo গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩ Logo দিনের আলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, পুলিশ জানে না কিছুই Logo ফ্রেশার চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, ২০ বছর হলেই আবেদন Logo দিনের আলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, জানে না পুলিশ Logo ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুতিনের ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক Logo টিভি দেখার সময় জানালা দিয়ে গুলি, গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ Logo সিলেটে ঘর থেকে শিশুসহ অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মরদেহ উদ্ধার

মোজা ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকছে, যা করবেন

দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেককেই দীর্ঘ সময় ধরে জুতো ও মোজা পরে কাটাতে হয়। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বাইরে যাতায়াত করলে পা অতিরিক্ত ঘামে, যার ফলে মোজায় অস্বস্তিকর দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় সাধারণ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করার পরও এই গন্ধ পুরোপুরি দূর হতে চায় না। মূলত পায়ের ঘাম বদ্ধ পরিবেশে আটকে থাকার কারণে এবং ঠিকমতো না শুকানোর ফলে মোজার কাপড়ের তন্তুতে দুর্গন্ধ স্থায়ী হয়ে যায়।

আমাদের পায়ের ত্বকে অসংখ্য ঘর্মগ্রন্থি থাকে, যা থেকে নিয়মিত ঘাম নির্গত হয়। জুতো ও মোজা দিয়ে পা ঢাকা থাকায় সেই ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না এবং একটি উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশের সৃষ্টি করে। ত্বকে উপস্থিত স্বাভাবিক জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া এই ঘামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি করে। এছাড়া, মোজা পুরোপুরি না শুকিয়েই পুনরায় ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং কাপড়ের ফাইবারগুলোর গভীরে দুর্গন্ধ স্থায়ী রূপ নেয়।

সাধারণ ডিটারজেন্ট অনেক সময় কেবল উপরিভাগের ময়লা দূর করতে পারে, কিন্তু ফাইবারে আটকে থাকা জীবাণু পুরোপুরি নির্মול করতে ব্যর্থ হয়। এই সমস্যার একটি কার্যকর ও সহজ ঘরোয়া সমাধান হলো সাদা ভিনিগার ব্যবহার করা। ভিনিগারের মধ্যে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। ওয়াশিং মেশিনে সরাসরি দেওয়ার বদলে মোজা ধোয়ার আগে ভিনিগার ব্যবহার করলে তা ঘাম ও ব্যাকটেরিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং জমে থাকা দুর্গন্ধ সফলভাবে দূর করতে সাহায্য করে।

ভিনিগার ব্যবহারের কয়েকটি সহজ নিয়ম রয়েছে যা মেনে চলা যেতে পারে। একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে সামান্য সাদা ভিনিগার নিয়ে মোজার গোড়ালি, তলা এবং আঙুলের ফাঁকের মতো ঘামপ্রবণ জায়গাগুলোতে হালকা করে স্প্রে করে নিতে হবে। মোজা সম্পূর্ণ ভিজিয়ে না রেখে এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দেওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে সমপরিমাণ পানি ও ভিনিগারের মিশ্রণে মোজা ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পরও তা পরিষ্কার করা সম্ভব।

তবে এই পদ্ধতি অনুসরণের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যেমন ভিনিগারের সঙ্গে ভুলেও ব্লিচ মেশানো যাবে না কারণ এতে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হতে পারে। শুধু মোজা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না, এর পাশাপাশি জুতো নিয়মিত পরিষ্কার ও রোদে শুকানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেজা মোজা দীর্ঘক্ষণ পরিহার করা এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার অভ্যাস পায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং দুর্গন্ধ দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

জনপ্রিয়

বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কোমরে টাকা দেখেই হত্যার পরিকল্পনা

মোজা ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকছে, যা করবেন

প্রকাশিত ০১:০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেককেই দীর্ঘ সময় ধরে জুতো ও মোজা পরে কাটাতে হয়। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বাইরে যাতায়াত করলে পা অতিরিক্ত ঘামে, যার ফলে মোজায় অস্বস্তিকর দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় সাধারণ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করার পরও এই গন্ধ পুরোপুরি দূর হতে চায় না। মূলত পায়ের ঘাম বদ্ধ পরিবেশে আটকে থাকার কারণে এবং ঠিকমতো না শুকানোর ফলে মোজার কাপড়ের তন্তুতে দুর্গন্ধ স্থায়ী হয়ে যায়।

আমাদের পায়ের ত্বকে অসংখ্য ঘর্মগ্রন্থি থাকে, যা থেকে নিয়মিত ঘাম নির্গত হয়। জুতো ও মোজা দিয়ে পা ঢাকা থাকায় সেই ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না এবং একটি উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশের সৃষ্টি করে। ত্বকে উপস্থিত স্বাভাবিক জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া এই ঘামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে দুর্গন্ধযুক্ত যৌগ তৈরি করে। এছাড়া, মোজা পুরোপুরি না শুকিয়েই পুনরায় ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং কাপড়ের ফাইবারগুলোর গভীরে দুর্গন্ধ স্থায়ী রূপ নেয়।

সাধারণ ডিটারজেন্ট অনেক সময় কেবল উপরিভাগের ময়লা দূর করতে পারে, কিন্তু ফাইবারে আটকে থাকা জীবাণু পুরোপুরি নির্মול করতে ব্যর্থ হয়। এই সমস্যার একটি কার্যকর ও সহজ ঘরোয়া সমাধান হলো সাদা ভিনিগার ব্যবহার করা। ভিনিগারের মধ্যে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। ওয়াশিং মেশিনে সরাসরি দেওয়ার বদলে মোজা ধোয়ার আগে ভিনিগার ব্যবহার করলে তা ঘাম ও ব্যাকটেরিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং জমে থাকা দুর্গন্ধ সফলভাবে দূর করতে সাহায্য করে।

ভিনিগার ব্যবহারের কয়েকটি সহজ নিয়ম রয়েছে যা মেনে চলা যেতে পারে। একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে সামান্য সাদা ভিনিগার নিয়ে মোজার গোড়ালি, তলা এবং আঙুলের ফাঁকের মতো ঘামপ্রবণ জায়গাগুলোতে হালকা করে স্প্রে করে নিতে হবে। মোজা সম্পূর্ণ ভিজিয়ে না রেখে এভাবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দেওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলা যায়। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে সমপরিমাণ পানি ও ভিনিগারের মিশ্রণে মোজা ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পরও তা পরিষ্কার করা সম্ভব।

তবে এই পদ্ধতি অনুসরণের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যেমন ভিনিগারের সঙ্গে ভুলেও ব্লিচ মেশানো যাবে না কারণ এতে ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হতে পারে। শুধু মোজা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না, এর পাশাপাশি জুতো নিয়মিত পরিষ্কার ও রোদে শুকানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেজা মোজা দীর্ঘক্ষণ পরিহার করা এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার অভ্যাস পায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং দুর্গন্ধ দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।