ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এমপির মোবাইল নম্বর হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা দাবি Logo দৌলতপুরে দুই মাসে ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত Logo রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে জোরালো ও কার্যকর সমর্থন চান তারেক রহমান Logo লাল লিপস্টিক: সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ক্ষমতা, দ্রোহ ও সৌন্দর্যের ইতিহাস Logo কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু Logo পত্রিকা: ‘ডিএমপির অপরাধী চক্রের তালিকায় প্রতি ছয়জনে একজন ১৮ বছরের কম বয়সী’ Logo ইউটিউব দেখে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষ, তিন লাখ টাকা বিক্রির আশা জব্বারের Logo বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি: ভুয়া নিয়োগ ও ভিসা স্পনসরশিপের ফাঁদ চিনবেন যেভাবে Logo ২০২৮ সালের মধ্যে সব ক্ষেত্রে এআই মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে: ইলন মাস্ক Logo সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প

দৌলতপুরে দুই মাসে ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত

কুষ্টিয়া জেলায় সারা বছরই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ লক্ষ্য করা যায় এবং এর মধ্যে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই দুই মাসের ব্যবধানে সেখানে মোট চৌপঞ্চাশজন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে জেলাজুড়ে আক্রান্তদের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও, দৌলতপুরের পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কেবল আগস্ট মাসেই ত্রিশজন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আরও চব্বিশজন নতুন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। আক্রান্ত এসব মানুষের মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান গ্রামের বাসিন্দা নাসির হোসেন এবং একই ইউনিয়নের সোহেল হোসেন সম্প্রতি অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ না হলেও চিকিৎসকদের দেওয়া নিয়মমাফিক ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তাঁদের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে কেবল বিশেষ কোনো সময়ে নয় বরং সারা বছরই অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়ে থাকে এবং বেশির ভাগ রোগীই বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের মতে, সামগ্রিকভাবে জেলায় কোনো মহামারি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি এবং দৌলতপুর ছাড়া মিরপুর, ভেড়ামারা বা কুমারখালী উপজেলায় বড় কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। মূলত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো তৃণভোজী পশুর এই রোগটি আক্রান্ত পশুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দৌলতপুর উপজেলায় তিন লাখেরও বেশি গবাদিপশু রয়েছে এবং অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি গোপনে অসুস্থ পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মূল ঝুঁকি তৈরি হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন মণ্ডল উল্লেখ করেছেন যে, পশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রাক্সের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

জনপ্রিয়

এমপির মোবাইল নম্বর হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা দাবি

দৌলতপুরে দুই মাসে ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত

প্রকাশিত ১০:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়া জেলায় সারা বছরই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ লক্ষ্য করা যায় এবং এর মধ্যে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই দুই মাসের ব্যবধানে সেখানে মোট চৌপঞ্চাশজন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে জেলাজুড়ে আক্রান্তদের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও, দৌলতপুরের পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কেবল আগস্ট মাসেই ত্রিশজন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আরও চব্বিশজন নতুন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। আক্রান্ত এসব মানুষের মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান গ্রামের বাসিন্দা নাসির হোসেন এবং একই ইউনিয়নের সোহেল হোসেন সম্প্রতি অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ না হলেও চিকিৎসকদের দেওয়া নিয়মমাফিক ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তাঁদের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে কেবল বিশেষ কোনো সময়ে নয় বরং সারা বছরই অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়ে থাকে এবং বেশির ভাগ রোগীই বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের মতে, সামগ্রিকভাবে জেলায় কোনো মহামারি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি এবং দৌলতপুর ছাড়া মিরপুর, ভেড়ামারা বা কুমারখালী উপজেলায় বড় কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। মূলত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো তৃণভোজী পশুর এই রোগটি আক্রান্ত পশুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দৌলতপুর উপজেলায় তিন লাখেরও বেশি গবাদিপশু রয়েছে এবং অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি গোপনে অসুস্থ পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মূল ঝুঁকি তৈরি হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন মণ্ডল উল্লেখ করেছেন যে, পশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রাক্সের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।