ঢাকা ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু Logo পত্রিকা: ‘ডিএমপির অপরাধী চক্রের তালিকায় প্রতি ছয়জনে একজন ১৮ বছরের কম বয়সী’ Logo ইউটিউব দেখে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষ, তিন লাখ টাকা বিক্রির আশা জব্বারের Logo বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি: ভুয়া নিয়োগ ও ভিসা স্পনসরশিপের ফাঁদ চিনবেন যেভাবে Logo ২০২৮ সালের মধ্যে সব ক্ষেত্রে এআই মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে: ইলন মাস্ক Logo সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প Logo মদিনার প্রান্তরে ঐতিহাসিক পাঁচ মসজিদ Logo খাওয়ার পর চা: এই অভ্যাস কতটা স্বাস্থ্যসম্মত Logo ফেলিক্সের গোলে পর্তুগালের জয়, নরওয়ের জয়ে হলান্ডের জোড়া গোল Logo ভারতে মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা

কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের টাঙ্গানিকা হ্রদে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং এতে অন্তত একচল্লিশ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতা শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় উনপঞ্চাশ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই দুর্ঘটনায় ঠিক কতজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে হ্রদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা।

দুর্ঘটনার শিকার হওয়া নৌযানটিতে প্রায় একশ জন যাত্রী এবং প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বোঝাই করা ছিল। তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা নৌকাটি কঙ্গোর কালেমিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কঙ্গোর ম্যাপেরা গ্রামের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছানোর পর হ্রদের পানিতে হঠাৎ নৌকাটি ডুবে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেনি। নৌযানটিতে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল নাকি অতিরিক্ত ওজনের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে এই বিপর্যয় ঘটেছ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কঙ্গোর টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এই প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেশটিতে জলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায়শই এমন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের চিত্র দেখা যায় এবং গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কিগোমা-কালেমিয়ে নৌপথে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের নৌপথের ওপর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে বারবার এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও নৌপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, কঙ্গোর নৌপথগুলোতে নিয়মিত দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা জড়িয়ে রয়েছে। দেশটির বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রয়োজনের তাগিদে সস্তা মাধ্যম হিসেবে নৌপথ বেছে নেন, যেখানে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত। অধিকাংশ নৌযানেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন করা হয়। এছাড়া নৌযানগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট বা অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামও থাকে না, যার ফলে সামান্য দুর্ঘটনাতেও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

জনপ্রিয়

কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু

কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের টাঙ্গানিকা হ্রদে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং এতে অন্তত একচল্লিশ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতা শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় উনপঞ্চাশ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই দুর্ঘটনায় ঠিক কতজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে হ্রদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকারীরা।

দুর্ঘটনার শিকার হওয়া নৌযানটিতে প্রায় একশ জন যাত্রী এবং প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বোঝাই করা ছিল। তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা নৌকাটি কঙ্গোর কালেমিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কঙ্গোর ম্যাপেরা গ্রামের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছানোর পর হ্রদের পানিতে হঠাৎ নৌকাটি ডুবে যায়। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেনি। নৌযানটিতে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল নাকি অতিরিক্ত ওজনের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে এই বিপর্যয় ঘটেছ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কঙ্গোর টাঙ্গানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে এই প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেশটিতে জলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায়শই এমন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের চিত্র দেখা যায় এবং গত এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কিগোমা-কালেমিয়ে নৌপথে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ ধরনের নৌপথের ওপর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে বারবার এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও নৌপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, কঙ্গোর নৌপথগুলোতে নিয়মিত দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা জড়িয়ে রয়েছে। দেশটির বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রয়োজনের তাগিদে সস্তা মাধ্যম হিসেবে নৌপথ বেছে নেন, যেখানে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত। অধিকাংশ নৌযানেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহন করা হয়। এছাড়া নৌযানগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট বা অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামও থাকে না, যার ফলে সামান্য দুর্ঘটনাতেও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।