কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতাকে এক নতুন মোড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর সাম্প্রতিক এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের শেষ নাগাদ কিংবা সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতার বিচারে সব ক্ষেত্রে মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এই প্রযুক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন, যা ইতিমধ্যে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এআই গবেষক ফ্রাঁসোয়া শোলের ২০২১ সালের একটি পুরোনো পূর্বাভাসের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মূলত এই মন্তব্য করেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী। ওই সময় শোলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, আগামী এক থেকে দুই দশকের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের মতো বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখাই পরোক্ষভাবে কম্পিউটারবিজ্ঞানের অংশ হয়ে উঠবে। সাম্প্রতিক সময়ে শোলে তাঁর সেই পুরোনো পোস্ট পুনরায় প্রকাশ করে জানান যে, সে সময় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও এখন প্রতিদিনের বাস্তবতায় এর সত্যতা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণ, জটিল সিমুলেশন পরিচালনা এবং মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া সূক্ষ্ম তথ্য বা ধরন শনাক্ত করার কাজে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রোটিনের গঠন নির্ধারণ, নতুন উপাদান আবিষ্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত মডেল তৈরির মতো ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে যা গবেষকদের কাজকে বহুলাংশে সহজ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উৎকর্ষ ও মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সময়সীমা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ইলন মাস্ক। অতীতে তিনি বলেছিলেন যে, ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে এআই মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করবে। তবে প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে তিনি এই সময়সীমা বেশ কয়েকবার এগিয়ে এনেছেন এবং ধারণা করছেন যে নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যেই এআই মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যাবে।





































