ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু Logo পত্রিকা: ‘ডিএমপির অপরাধী চক্রের তালিকায় প্রতি ছয়জনে একজন ১৮ বছরের কম বয়সী’ Logo ইউটিউব দেখে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষ, তিন লাখ টাকা বিক্রির আশা জব্বারের Logo বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি: ভুয়া নিয়োগ ও ভিসা স্পনসরশিপের ফাঁদ চিনবেন যেভাবে Logo ২০২৮ সালের মধ্যে সব ক্ষেত্রে এআই মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে: ইলন মাস্ক Logo সাড়ে তিনশো বছরেও লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আছে যে গল্প Logo মদিনার প্রান্তরে ঐতিহাসিক পাঁচ মসজিদ Logo খাওয়ার পর চা: এই অভ্যাস কতটা স্বাস্থ্যসম্মত Logo ফেলিক্সের গোলে পর্তুগালের জয়, নরওয়ের জয়ে হলান্ডের জোড়া গোল Logo ভারতে মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতে মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ মুসলিম কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে মাকতুব মিডিয়া নামক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। মূল অভিযোগটি করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র, যিনি দাবি করেছিলেন যে শাহের রাজ্য সফরের সময় মুসলিম আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশি এফআইআরে নির্দিষ্ট কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদকের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মাকতুব মিডিয়ার অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত দুটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই মূলত এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব বিষয়বস্তুকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে এবং মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-কে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই পোস্টগুলোতে এমন কিছু উপাদান ছিল যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং জনমনে বিশৃঙ্খলা তৈরির পাশাপাশি মানহানির মতো অপরাধ ঘটাতে পারে। যদিও এসব দাবি কেবল পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় এখনো প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মাকতুব মিডিয়ার এক্স অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট একটি সময়সীমার লগইন এবং ব্যবহৃত ডিভাইসসংক্রান্ত ডিজিটাল তথ্য তলব করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে পুলিশ যে সময়ের তথ্য চেয়েছে তা মূল এফআইআর দায়েরের তারিখের আগের ঘটনা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামেও এই সংক্রান্ত একটি গ্রাফিক্স পোস্ট আইনি নোটিশের মুখে পড়ে এবং গত সেপ্টেম্বর মাসে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ তা ভারত থেকে অপসারণ করে। পুরো ঘটনাটি ডিজিটাল মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগের আইনি সীমানা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র প্রথম গত সেপ্টেম্বর মাসে এই বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন যে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকলের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তিনি শুধু জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের দ্বারস্থ হননি, বরং জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছেন। কমিশন এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তলব করেছে। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য প্রচার করার কারণে মহুয়া মৈত্রীর নিজের বিরুদ্ধেও ইতিপূর্বে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে পুরো বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।

জনপ্রিয়

কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু

ভারতে মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত ০৭:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ মুসলিম কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে মাকতুব মিডিয়া নামক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। মূল অভিযোগটি করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র, যিনি দাবি করেছিলেন যে শাহের রাজ্য সফরের সময় মুসলিম আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশি এফআইআরে নির্দিষ্ট কোনো সাংবাদিক বা সম্পাদকের নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মাকতুব মিডিয়ার অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত দুটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই মূলত এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব বিষয়বস্তুকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে এবং মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-কে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই পোস্টগুলোতে এমন কিছু উপাদান ছিল যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং জনমনে বিশৃঙ্খলা তৈরির পাশাপাশি মানহানির মতো অপরাধ ঘটাতে পারে। যদিও এসব দাবি কেবল পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় এখনো প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মাকতুব মিডিয়ার এক্স অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট একটি সময়সীমার লগইন এবং ব্যবহৃত ডিভাইসসংক্রান্ত ডিজিটাল তথ্য তলব করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে পুলিশ যে সময়ের তথ্য চেয়েছে তা মূল এফআইআর দায়েরের তারিখের আগের ঘটনা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামেও এই সংক্রান্ত একটি গ্রাফিক্স পোস্ট আইনি নোটিশের মুখে পড়ে এবং গত সেপ্টেম্বর মাসে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ তা ভারত থেকে অপসারণ করে। পুরো ঘটনাটি ডিজিটাল মাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগের আইনি সীমানা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র প্রথম গত সেপ্টেম্বর মাসে এই বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন যে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, এসটিএফ প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকলের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তিনি শুধু জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের দ্বারস্থ হননি, বরং জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছেন। কমিশন এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তলব করেছে। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য প্রচার করার কারণে মহুয়া মৈত্রীর নিজের বিরুদ্ধেও ইতিপূর্বে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে পুরো বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।