ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু Logo সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রস্তাব Logo নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক Logo ইবিতে প্রেমিক যুগল আটক, আজ বিয়ে Logo ২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন Logo ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল চাষের শুরু, প্রথম বছরেই লাভ ১০ লাখ টাকা Logo এক সিনেমার পরেই অভিনয় ছাড়েন শাহরুখের নায়িকা, স্বামী ৪৮ হাজার কোটি রুপির মালিক Logo কেন কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই খ্রিস্টবিরোধী, যা মানুষকে শয়তানের উপাসনায় প্ররোচিত করছে Logo পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ Logo সেরা হয়ে ১২ কোটি টাকা পেলেন, ১৬ বছর বয়সী কে এই নেনে

ক্যামেরায় ধরা পড়ল কোয়ান্টাম জগতের রহস্য

কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার সবচেয়ে বিস্ময়কর ও রহস্যময় একটি ধারণা হলো কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট বা কোয়ান্টাম জট। এই তত্ত্বর মূল কথা হলো, দুটি কণা যদি একবার কোয়ান্টামগতভাবে জড়িয়ে যায়, তবে তাদের মধ্যে বিশাল দূরত্ব থাকলেও একটির আচরণ অন্যটিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিখ্যাত পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইন এই অদ্ভুত ঘটনাটিকে দূর থেকে ঘটা ভৌতিক কাণ্ড বা স্পুকি অ্যাকশন অ্যাট আ ডিসট্যান্স হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। চিরায়ত পদার্থবিদ্যার নিয়মের সঙ্গে এটি না মেলায় আইনস্টাইন মনে করতেন এর পেছনে কোনো গোপন চলক বা অজানা তথ্য রয়েছে।

আইনস্টাইনের সেই ধারণার সঠিকতা যাচাই করতে গিয়ে ষাটের দশকে পদার্থবিদ স্যার জন বেল একটি তাত্ত্বিক সমাধানের প্রস্তাব করেছিলেন। বেলের অসমতা নামে পরিচিত এই সূত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েlardı যে কণাগুলোর আচরণের পেছনে আসলেই কোনো গোপন তথ্য কাজ করে কি না। বিভিন্ন পরীক্ষায় এর আগে বেলের অসমতা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছিল, যা কোয়ান্টাম জগতের অদ্ভুত আচরণকে আরও জোরালো করে তুলেছে। তবে এতদিন বিষয়টি কেবল গাণিতিক হিসাব-নিকাশ ও পরীক্ষাগারের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এই জটিল বিষয়টিকে দৃশ্যমান করতে কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিলেন। গবেষক দলটি বিশেষ এক ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের দৃশ্যমান প্রভাব ক্যামেরাবন্দি করতে সক্ষম হন। এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁরা অতিবেগুনি লেজার রশ্মি বিটা-বেরিয়াম বোরেট ক্রিস্টালের ওপর ফেলে ফোটন কণাগুলোকে বিভক্ত করেন। এর ফলে তৈরি হওয়া জোড়া ফোটন কণাগুলো পরস্পরের সঙ্গে কোয়ান্টাম জটে আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের আচরণে বেলের অসমতা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই গবেষণায় ব্যবহৃত ক্যামেরাটি এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে এটি অতি ক্ষুদ্র একক ফোটন কণা আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারত। যখনই মূল ফোটনের সঙ্গে তার এন্ট্যাঙ্গেলড সঙ্গী কণাটি ধরা পড়ত, তখনই ক্যামেরাটি ছবি তুলে সেই মুহূর্তটি সংরক্ষণ করত। এই গবেষণার অন্যতম মূল প্রণেতা বিজ্ঞানী মাইলস প্যাজেট মনে করেন, কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই যুগান্তকারী পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফির মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে এই ধরনের গবেষণা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

জনপ্রিয়

চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

ক্যামেরায় ধরা পড়ল কোয়ান্টাম জগতের রহস্য

প্রকাশিত ০৭:১৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার সবচেয়ে বিস্ময়কর ও রহস্যময় একটি ধারণা হলো কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট বা কোয়ান্টাম জট। এই তত্ত্বর মূল কথা হলো, দুটি কণা যদি একবার কোয়ান্টামগতভাবে জড়িয়ে যায়, তবে তাদের মধ্যে বিশাল দূরত্ব থাকলেও একটির আচরণ অন্যটিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিখ্যাত পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইন এই অদ্ভুত ঘটনাটিকে দূর থেকে ঘটা ভৌতিক কাণ্ড বা স্পুকি অ্যাকশন অ্যাট আ ডিসট্যান্স হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। চিরায়ত পদার্থবিদ্যার নিয়মের সঙ্গে এটি না মেলায় আইনস্টাইন মনে করতেন এর পেছনে কোনো গোপন চলক বা অজানা তথ্য রয়েছে।

আইনস্টাইনের সেই ধারণার সঠিকতা যাচাই করতে গিয়ে ষাটের দশকে পদার্থবিদ স্যার জন বেল একটি তাত্ত্বিক সমাধানের প্রস্তাব করেছিলেন। বেলের অসমতা নামে পরিচিত এই সূত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েlardı যে কণাগুলোর আচরণের পেছনে আসলেই কোনো গোপন তথ্য কাজ করে কি না। বিভিন্ন পরীক্ষায় এর আগে বেলের অসমতা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছিল, যা কোয়ান্টাম জগতের অদ্ভুত আচরণকে আরও জোরালো করে তুলেছে। তবে এতদিন বিষয়টি কেবল গাণিতিক হিসাব-নিকাশ ও পরীক্ষাগারের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এই জটিল বিষয়টিকে দৃশ্যমান করতে কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিলেন। গবেষক দলটি বিশেষ এক ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের দৃশ্যমান প্রভাব ক্যামেরাবন্দি করতে সক্ষম হন। এই পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁরা অতিবেগুনি লেজার রশ্মি বিটা-বেরিয়াম বোরেট ক্রিস্টালের ওপর ফেলে ফোটন কণাগুলোকে বিভক্ত করেন। এর ফলে তৈরি হওয়া জোড়া ফোটন কণাগুলো পরস্পরের সঙ্গে কোয়ান্টাম জটে আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের আচরণে বেলের অসমতা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই গবেষণায় ব্যবহৃত ক্যামেরাটি এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে এটি অতি ক্ষুদ্র একক ফোটন কণা আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারত। যখনই মূল ফোটনের সঙ্গে তার এন্ট্যাঙ্গেলড সঙ্গী কণাটি ধরা পড়ত, তখনই ক্যামেরাটি ছবি তুলে সেই মুহূর্তটি সংরক্ষণ করত। এই গবেষণার অন্যতম মূল প্রণেতা বিজ্ঞানী মাইলস প্যাজেট মনে করেন, কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই যুগান্তকারী পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফির মতো আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে এই ধরনের গবেষণা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।