অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অধ্যাপক টবি ওয়ালশ সম্প্রতি মানবজাতির বিলুপ্তি নিয়ে কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রযুক্তি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশন-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এআই কীভাবে মানবসভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের বেশ কয়েকজন গবেষক দাবি করেছেন যে এই দশকের শেষ নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এমন সব চাঞ্চল্যকর দাবি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
অধ্যাপক ওয়ালশ এই সম্ভাব্য ধ্বংসের পেছনের কারণগুলোকে অস্পষ্ট থেকে সুনির্দিষ্ট ক্রমানুসারে পাঁচটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভাগ করেছেন। তাঁর প্রথম ও সবচেয়ে তাত্ত্বিক পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট বা অতিবুদ্ধিমান এআই আমাদের ধ্বংস করতে কী করতে পারে, তা হয়তো আমরা ধারণাই করতে পারব না। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে অক্সফোর্ডের দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের বিখ্যাত ‘পেপারক্লিপ’ উদাহরণের কথা বলা হয়েছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অন্ধভাবে পূরণ করতে গিয়ে এআই পুরো পৃথিবীকেই ধ্বংস করে দিতে পারে।
তৃতীয় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি হিসেবে জৈব অস্ত্রের অপব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে এআইয়ের সহায়তায় কোনো ক্ষতিকর ভাইরাস তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চতুর্থ পরিস্থিতিতে সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনুপ্রবেশের ফলে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। যদিও ইতিহাসের বিভিন্ন ভুলের পুনরাবৃত্তি এবং পরবর্তীতে পারমাণবিক শীত বা নিউক্লিয়ার উইন্টারের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা এর সঙ্গে জড়িত, তবুও এর নিয়ন্ত্রণে মানুষের সতর্কতার অবকাশ রয়েছে।
সর্বশেষ ও সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পঞ্চম পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে যে এআই সরাসরি আক্রমণ না করলেও মানুষের নিজেদের তৈরি সামাজিক ভাঙনের মাধ্যমে ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাপকভাবে চাকরি কেড়ে নেওয়া, ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন তৈরি করা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করার মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে অধ্যাপক ওয়ালশ মনে করেন, এসব আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকলেও অতিরিক্ত আতঙ্কিত না হয়ে প্রযুক্তির ওপর সঠিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাটাই মূল সমাধান।




































