ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: ঢাকায় গণসংযোগ ও সমাবেশ করবে এনসিপি Logo ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আঞ্চলিক জোট-সমন্বিত কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ’ Logo সেবার মান বাড়লে রোগীদের বিদেশ যাওয়া কমবে: রাষ্ট্রপতি Logo ফরিদপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, অস্বীকার প্রশাসনের Logo রূপপুরে প্রথমবারের মত পারমাণবিক বিক্রিয়া Logo জাবিতে ‘দেয়ালজুড়ে সাদা নৈঃশব্দ’ চিত্রপ্রদর্শনী আয়োজিত Logo পাবিপ্রবিতে আবারো ছাত্রীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ,ব্যবস্থা নিতে বিভাগে আবেদন Logo পাবিপ্রবিতে IEEE Day ২০২৬ উদ্‌যাপন, অনুষ্ঠিত দুই সেমিনার Logo ডাইনোসর যুগে নদী-হ্রদে ভেসে বেড়াত ভোঁদড়সদৃশ এই প্রাণী Logo কোনো মুচলেকায় সই করিনি, আবার আন্দোলনে নামব: দিপকে

ডাইনোসর যুগে নদী-হ্রদে ভেসে বেড়াত ভোঁদড়সদৃশ এই প্রাণী

প্রযুক্তি ডেস্ক: চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চল থেকে ১৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগের এক বিরল ও অদ্ভুত প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন গবেষকরা। জুরাসিক পর্বের নতুন এই স্তন্যপায়ী জলচর প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে মেগাকাউডা সানগি। আধুনিক প্লাটিপাসের মতো সাঁতার কাটা এবং ভোঁদরের মতো শিকার ধরার ক্ষমতার অধিকারী এই প্রাণীটি স্তন্যপায়ী বিবর্তনের ইতিহাসে প্রাচীনতম আধা-জলচর উদাহরণ। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচার-এ সম্প্রতি এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রায় ২০ ইঞ্চি লম্বা এবং এক থেকে দুই কেজি ওজনের এই প্রাণীটি সে সময়ের বেশিরভাগ ছুঁচোর মতো ক্ষুদ্রাকৃতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আকৃতির ছিল। ভালোভাবে সংরক্ষিত জীবাশ্মটিতে চামড়া ও পশমের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে, যা এর নিখুঁত শারীরিক অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মেগাকাউডার গলার পেশী ও কঙ্কালের গঠন আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অনুরূপ। এই শারীরবৃত্তীয় কাঠামোর কারণেই মানুষসহ আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা চিবানো খাবার অল্প অল্প করে গিলতে এবং বাচ্চারা মায়ের দুধ চুষে খেতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর জীবাশ্মবিদ ও গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ঝে-সি লুও জানিয়েছেন, আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের খাবার গ্রহণের অভ্যাস অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কুমির বা অজগরের মতো আস্ত শিকার গিলে না খেয়ে, স্তন্যপায়ীদের জটিল দাঁতের সাহায্যে খাবার চিবিয়ে লালার সঙ্গে মিশিয়ে গিলতে হয়। মাথার খুলির নিচে সূক্ষ্ম হাড় ও গলার সংযোগকারী হাড়ের উপস্থিতির কারণে মেগাকাউডা একইসঙ্গে শ্বাস নেওয়া ও খাবার খাওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে পারত। ডোকোডন্ট নামের একটি প্রাচীন স্তন্যপায়ী গোষ্ঠীর সদস্য ছিল এই মেগাকাউডা, যেটির কোনো প্রত্যক্ষ বংশধর বর্তমানে জীবিত নেই।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অফ বন-এর জীবাশ্মবিদ ও সহ-লেখক থমাস মার্টিন বলেছেন, মেগাকাউডা পানিতে সাঁতার কাটার সময় পাগুলোকে বৈঠার মতো ব্যবহার করত এবং লেজ নাড়িয়ে দেহ বাঁকিয়ে এগোতো। বিভার ও প্লাটিপাসের মতো এদের চ্যাপ্টা লেজ ছিল, যা ছোট ছোট আঁশ দিয়ে ঢাকা এবং বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বড় লেজ। নদী বা হ্রদের তীরে গর্ত খুঁড়ে বসবাসকারী এই প্রাণীটির দাঁত ও চোয়ালের গঠন ছিল মাংসাশী খাদ্যাভ্যাসের উপযোগী। পাকস্থলীর অবশিষ্টাংশে হাড়ের ছোট ছোট টুকরা মেলায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এরা স্যালামান্ডারের মতো ছোট আকারের মেরুদণ্ডী প্রাণী শিকার করত।

ডাইনোসরদের আধিপত্য থাকা বাস্তুতন্ত্রেও স্তন্যপায়ী প্রাণীরা যে কতটা বৈচিত্র্যময় পরিবেশে টিকতে সক্ষম ছিল, মেগাকাউডার আবিষ্কার সেই প্রমাণই দেয়। গবেষক লুও উল্লেখ করেছেন যে, মেগাকাউডাকে সবসময় পালকওয়ালা মাংসাশী থেরোপড ডাইনোসরদের আক্রমণ থেকে সতর্ক থাকতে হতো। নিজেদের জীবন বাঁচাতে এই প্রাণীটি সম্ভবত নিশাচর ছিল অথবা ভোর ও গোধূলির আবছা আলোয় খাবারের সন্ধানে বের হতো। প্রাচীন হ্রদের তলদেশের পলি থেকে গঠিত পাথরের ভেতর থেকে এই জীবাশ্মটি উদ্ধার করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: ঢাকায় গণসংযোগ ও সমাবেশ করবে এনসিপি

ডাইনোসর যুগে নদী-হ্রদে ভেসে বেড়াত ভোঁদড়সদৃশ এই প্রাণী

প্রকাশিত ০৮:৩৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চল থেকে ১৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগের এক বিরল ও অদ্ভুত প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছেন গবেষকরা। জুরাসিক পর্বের নতুন এই স্তন্যপায়ী জলচর প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে মেগাকাউডা সানগি। আধুনিক প্লাটিপাসের মতো সাঁতার কাটা এবং ভোঁদরের মতো শিকার ধরার ক্ষমতার অধিকারী এই প্রাণীটি স্তন্যপায়ী বিবর্তনের ইতিহাসে প্রাচীনতম আধা-জলচর উদাহরণ। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচার-এ সম্প্রতি এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রায় ২০ ইঞ্চি লম্বা এবং এক থেকে দুই কেজি ওজনের এই প্রাণীটি সে সময়ের বেশিরভাগ ছুঁচোর মতো ক্ষুদ্রাকৃতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আকৃতির ছিল। ভালোভাবে সংরক্ষিত জীবাশ্মটিতে চামড়া ও পশমের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে, যা এর নিখুঁত শারীরিক অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মেগাকাউডার গলার পেশী ও কঙ্কালের গঠন আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের অনুরূপ। এই শারীরবৃত্তীয় কাঠামোর কারণেই মানুষসহ আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা চিবানো খাবার অল্প অল্প করে গিলতে এবং বাচ্চারা মায়ের দুধ চুষে খেতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর জীবাশ্মবিদ ও গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ঝে-সি লুও জানিয়েছেন, আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের খাবার গ্রহণের অভ্যাস অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কুমির বা অজগরের মতো আস্ত শিকার গিলে না খেয়ে, স্তন্যপায়ীদের জটিল দাঁতের সাহায্যে খাবার চিবিয়ে লালার সঙ্গে মিশিয়ে গিলতে হয়। মাথার খুলির নিচে সূক্ষ্ম হাড় ও গলার সংযোগকারী হাড়ের উপস্থিতির কারণে মেগাকাউডা একইসঙ্গে শ্বাস নেওয়া ও খাবার খাওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে পারত। ডোকোডন্ট নামের একটি প্রাচীন স্তন্যপায়ী গোষ্ঠীর সদস্য ছিল এই মেগাকাউডা, যেটির কোনো প্রত্যক্ষ বংশধর বর্তমানে জীবিত নেই।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অফ বন-এর জীবাশ্মবিদ ও সহ-লেখক থমাস মার্টিন বলেছেন, মেগাকাউডা পানিতে সাঁতার কাটার সময় পাগুলোকে বৈঠার মতো ব্যবহার করত এবং লেজ নাড়িয়ে দেহ বাঁকিয়ে এগোতো। বিভার ও প্লাটিপাসের মতো এদের চ্যাপ্টা লেজ ছিল, যা ছোট ছোট আঁশ দিয়ে ঢাকা এবং বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বড় লেজ। নদী বা হ্রদের তীরে গর্ত খুঁড়ে বসবাসকারী এই প্রাণীটির দাঁত ও চোয়ালের গঠন ছিল মাংসাশী খাদ্যাভ্যাসের উপযোগী। পাকস্থলীর অবশিষ্টাংশে হাড়ের ছোট ছোট টুকরা মেলায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এরা স্যালামান্ডারের মতো ছোট আকারের মেরুদণ্ডী প্রাণী শিকার করত।

ডাইনোসরদের আধিপত্য থাকা বাস্তুতন্ত্রেও স্তন্যপায়ী প্রাণীরা যে কতটা বৈচিত্র্যময় পরিবেশে টিকতে সক্ষম ছিল, মেগাকাউডার আবিষ্কার সেই প্রমাণই দেয়। গবেষক লুও উল্লেখ করেছেন যে, মেগাকাউডাকে সবসময় পালকওয়ালা মাংসাশী থেরোপড ডাইনোসরদের আক্রমণ থেকে সতর্ক থাকতে হতো। নিজেদের জীবন বাঁচাতে এই প্রাণীটি সম্ভবত নিশাচর ছিল অথবা ভোর ও গোধূলির আবছা আলোয় খাবারের সন্ধানে বের হতো। প্রাচীন হ্রদের তলদেশের পলি থেকে গঠিত পাথরের ভেতর থেকে এই জীবাশ্মটি উদ্ধার করা হয়েছে।