স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার মান উন্নত করা গেলে রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে হেপাটোলজি সোসাইটির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। পেশাজীবীদের নিজ নিজ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে হেপাটোলজি সোসাইটির নেতারা জানান যে বর্তমানে দেশেই লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বা প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসা সফলভাবে প্রদান করা হচ্ছে। তবে খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে দেশে ফ্যাটি লিভার এবং হেপাটাইটিস-বির রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সময় প্রতিনিধিদলের প্রধান আসন্ন একটি আন্তর্জাতিক লিভার বিষয়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আনন্দের সঙ্গে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া, চিকিৎসকদের আরেকটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও সমাজসেবায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে দেশের অসহায় ও অস্বচ্ছল রোগীরাও সমানভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। ওই প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে বর্তমানে দেশেই বিশ্বমানের কোলন ও রেক্টাল সার্জারি সম্পন্ন হচ্ছে, যার ফলে এ ধরনের চিকিৎসার জন্যও রোগীদের আর বিদেশমুখী হতে হয় না। পরে প্রতিনিধিদলের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে একটি আন্তর্জাতিক কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও চিকিৎসকদের এই অগ্রগতির বিষয়গুলো দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা খাতের সক্ষমতাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে। উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশের ভেতরই আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এতে একদিকে যেমন রোগীদের বিদেশ যাওয়ার মানসিকতা ও আর্থিক অপচয় কমবে, অন্যদিকে দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা ও আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।






































