ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মনের জট খুলতে বইয়ের কাছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রিয় মানুষের প্রয়াণ কিংবা সম্পর্ক ভাঙার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে মনের কষ্ট প্রকাশ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন জটিল ও অপরিচিত মানসিক অবস্থায় বই হতে পারে অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। বিভিন্ন গল্প বা কবিতার মধ্য দিয়ে নিজের অনুভূতির প্রতিফলন খুঁজে পেলে মনের জমে থাকা জট খুলতে শুরু করে।

মানসিক সুস্থতার সহায়ক হিসেবে পরিকল্পিতভাবে বই পড়ার এই পদ্ধতিটি ‘বিবলিওথেরাপি’ বা গ্রন্থচিকিৎসা নামে পরিচিত। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী কেলি হোয়েলিং জানান, আবেগগত সুস্থতা ও মানসিক চাপ মোকাবেলায় সচেতনভাবে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এই পদ্ধতির মূল কথা। এতে মূলত আত্মউন্নয়নমূলক বই এবং সাহিত্যকর্ম ব্যবহার করা হয়।

গল্পের কোনো চরিত্রের কষ্টে নিজের অভিজ্ঞতার ছায়া দেখতে পেলে শোকের সময়েও পাঠক নিজেকে একা মনে করেন না। কেলি হোয়েলিং উল্লেখ করেন যে, বই হয়তো সরাসরি কষ্টের কারণ দূর করতে পারে না, তবে নিজেকে নিঃসঙ্গ ভাবার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।

বই পড়ার পরিধি শুধু নিজের কষ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি অন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতেও সাহায্য করে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অশ্বিনী নাদকার্নি জানান, নতুন তথ্যের সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নতুন সংযোগ তৈরির সক্ষমতা বা স্নায়বিক নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়।

দুঃখের গল্প পড়ে অনেক সময় চাপা কষ্ট প্রকাশের সুযোগ তৈরি হলেও, অস্বস্তি অসহনীয় হলে বিরতি নেওয়া জরুরি। বইকে বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বেড়ানোর মাধ্যম না বানিয়ে, নিজের অনুভূতি বোঝার এবং নিরাপদ মানসিক পরিসর তৈরি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই শ্রেয়।

জনপ্রিয়

৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ ভবন থেকে বের করে আনা হলো চুয়েট উপাচার্যকে

মনের জট খুলতে বইয়ের কাছে

প্রকাশিত ০৬:০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রিয় মানুষের প্রয়াণ কিংবা সম্পর্ক ভাঙার মতো কঠিন পরিস্থিতিতে মনের কষ্ট প্রকাশ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন জটিল ও অপরিচিত মানসিক অবস্থায় বই হতে পারে অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। বিভিন্ন গল্প বা কবিতার মধ্য দিয়ে নিজের অনুভূতির প্রতিফলন খুঁজে পেলে মনের জমে থাকা জট খুলতে শুরু করে।

মানসিক সুস্থতার সহায়ক হিসেবে পরিকল্পিতভাবে বই পড়ার এই পদ্ধতিটি ‘বিবলিওথেরাপি’ বা গ্রন্থচিকিৎসা নামে পরিচিত। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী কেলি হোয়েলিং জানান, আবেগগত সুস্থতা ও মানসিক চাপ মোকাবেলায় সচেতনভাবে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এই পদ্ধতির মূল কথা। এতে মূলত আত্মউন্নয়নমূলক বই এবং সাহিত্যকর্ম ব্যবহার করা হয়।

গল্পের কোনো চরিত্রের কষ্টে নিজের অভিজ্ঞতার ছায়া দেখতে পেলে শোকের সময়েও পাঠক নিজেকে একা মনে করেন না। কেলি হোয়েলিং উল্লেখ করেন যে, বই হয়তো সরাসরি কষ্টের কারণ দূর করতে পারে না, তবে নিজেকে নিঃসঙ্গ ভাবার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।

বই পড়ার পরিধি শুধু নিজের কষ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি অন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতেও সাহায্য করে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অশ্বিনী নাদকার্নি জানান, নতুন তথ্যের সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নতুন সংযোগ তৈরির সক্ষমতা বা স্নায়বিক নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়।

দুঃখের গল্প পড়ে অনেক সময় চাপা কষ্ট প্রকাশের সুযোগ তৈরি হলেও, অস্বস্তি অসহনীয় হলে বিরতি নেওয়া জরুরি। বইকে বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বেড়ানোর মাধ্যম না বানিয়ে, নিজের অনুভূতি বোঝার এবং নিরাপদ মানসিক পরিসর তৈরি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই শ্রেয়।