ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইমরান খানের ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, উল্টো হতে পারে ফল

রাজনীতি ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলা আন্দোলনের জেরে দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে স্কুল বন্ধ রাখা, ইন্টারনেট সীমিত করা এবং সড়কগুলোতে কনটেইনার ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে পাকিস্তান রাষ্ট্র ও ইমরান খানের সমর্থকদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা হ্রাসের পরিবর্তে উল্টো আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতেই সাংবিধানিক উপায়ে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন যে পিটিআই সরকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলছিল, যদিও এর সমর্থনে কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং ভিন্নমত দমনের জন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পেশোয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি শিথিল হলেও পিটিআইয়ের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বিক্ষোভ দমনে অভিযান চলছে।

প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে চলা লং মার্চ এবং হাজার হাজার মানুষের মিছিলই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারজানা শেখ ও ভাষ্যকার আরিফা নূরের মতে, সরকারের এই ব্যাখায় অসংগতি রয়েছে এবং এটি মূলত বিরোধী দলকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যেখানে পিটিআই তাঁর আটকের দাবি করলেও সরকার দাবি করেছে তিনি সুরক্ষামূলক হেফাজতে আছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বন্দি থাকা ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও মুক্তি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ক্ষমতার ভারসাম্য বর্তমানে সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কিছু ঘটনার কারণে সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান জঙ্গিবাদ, আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অস্বীকার করলেও বিরোধী পক্ষ ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সংকট সমাধানের কোনো সদিচ্ছা কর্তৃপক্ষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের ‘হাব’ গড়তে চায় ইতালি

ইমরান খানের ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, উল্টো হতে পারে ফল

প্রকাশিত ০৩:২২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলা আন্দোলনের জেরে দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে স্কুল বন্ধ রাখা, ইন্টারনেট সীমিত করা এবং সড়কগুলোতে কনটেইনার ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে পাকিস্তান রাষ্ট্র ও ইমরান খানের সমর্থকদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা হ্রাসের পরিবর্তে উল্টো আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতেই সাংবিধানিক উপায়ে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন যে পিটিআই সরকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলছিল, যদিও এর সমর্থনে কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং ভিন্নমত দমনের জন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পেশোয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি শিথিল হলেও পিটিআইয়ের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বিক্ষোভ দমনে অভিযান চলছে।

প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে চলা লং মার্চ এবং হাজার হাজার মানুষের মিছিলই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারজানা শেখ ও ভাষ্যকার আরিফা নূরের মতে, সরকারের এই ব্যাখায় অসংগতি রয়েছে এবং এটি মূলত বিরোধী দলকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যেখানে পিটিআই তাঁর আটকের দাবি করলেও সরকার দাবি করেছে তিনি সুরক্ষামূলক হেফাজতে আছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বন্দি থাকা ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও মুক্তি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ক্ষমতার ভারসাম্য বর্তমানে সামরিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কিছু ঘটনার কারণে সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান জঙ্গিবাদ, আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অস্বীকার করলেও বিরোধী পক্ষ ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সংকট সমাধানের কোনো সদিচ্ছা কর্তৃপক্ষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।