লাইফস্টাইল ডেস্ক: কঠিন কোনো ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি পরিষ্কার জানা থাকার পরও অনেকের মনের ভেتরের অস্বস্তি কাটতে চায় না। একই বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করা এবং যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার পরও কোনো স্বস্তি মেলে না। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রবণতাকে ‘বুদ্ধিবৃত্তিকীকরণ’ বলা হয়, যেখানে সরাসরি অনুভূতি অনুভব না করে যুক্তির মাধ্যমে তা সামলানোর চেষ্টা করা হয়। এর ফলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও নিজের আসল অনুভূতি উপলব্ধি করার পথ অনেকটাই আড়াল হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা কর্মক্ষেত্রে ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলোর কারণ খোঁজা স্বাভাবিক হলেও সমস্যা তৈরি হয় যখন প্রতিটি অনুভূতিকে যুক্তি দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেসি গোল্ড উল্লেখ করেছেন যে মানুষ অনেক সময় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এতই ব্যস্ত থাকে যে নিজের অনুভূতির সঙ্গে কোনো সংযোগই থাকে না। ফলে যুক্তি দিয়ে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও ভেতরের অদৃশ্য কষ্টগুলো দূর হয় না।
যুক্ত দিয়ে অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে যা অনেকের আচরণে প্রকাশ পায়। মন খারাপের কারণ বা ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারলেও অনেকে নিজের ভেতরের একাকীত্ব, হতাশা বা অপমানের কথা বলতে গিয়ে আটকে যান। থেরাপিস্ট ডা. নারি জেটার মতে, কষ্টের অনুভূতিগুলোকে দ্রুত দূর করার তাগিদ বা সবকিছু অতিরিক্ত শান্তভাবে প্রকাশ করার মতো বিষয়গুলো আসলে অনুভূতি এড়িয়ে যাওয়ারই একেকটি উপায়।
সব অনুভূতির পেছনে সবসময় যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং অন্যের কাছে গুরুত্বহীন ঘটনাও মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাগ বা কষ্টের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি সেই অনুভূতিগুলো নীরবে অনুভব করা এবং নিজের মনের অবস্থাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা জরুরি। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক অস্বস্তি না কাটলে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে একজন মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উপকারী হতে পারে।






































