জাতীয় ডেস্ক: সমাজে নিজ নিজ ব্যতিক্রমী কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তিনজন ব্যক্তি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান যে গত বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।
বৈঠকে উপস্থিত তিনজনের মধ্যে নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই ডিজিটাল কনটেন্ট ও শিক্ষা উপকরণ তৈরি করেন। নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতহীন হওয়া সত্ত্বেও দমে না থেকে পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ২০০৭ সালে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির টাকায় গড়া ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং তার এই সংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন।
অপরদিকে ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজ অর্থ ও শ্রমে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করে তিনি এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে এই তিন ব্যক্তি দারুণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাদের এই ব্যতিক্রমী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে দেশ গঠনে এ ধরনের মানুষের অনেক প্রয়োজন রয়েছে এবং তাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সহজ হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।




































