অর্থনীতি ডেস্ক: মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত না পেয়ে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন পদ্মা ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বুধবার সকাল ১০টায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাধারণ আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ অবিলম্বে উদ্ধারের জোরালো দাবি জানান। এ সময় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা চালালেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের বাধায় তা ব্যর্থ হয়। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিকট একটি স্মারকলিপি পেশ করার উদ্দেশ্যেই তারা ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়।
গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের সমস্ত শ্রমের উপার্জন, পেনশনের অর্থ, চিকিৎসার সঞ্চয় এবং সহায়-সম্বল বিক্রি করে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে পদ্মা ব্যাংকে আমানত রেখেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ আমানতের একটি টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। ব্যাংক শাখাগুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ করে গ্রাহকরা বারবার অপদস্থ ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন। অর্থের অভাবে অনেক গ্রাহক বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন এবং সংসার চালাতে না পেরে অনেকে নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় বসে পড়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সভায় থাইল্যান্ডে অবস্থান করায় আন্দোলনকারীরা তার কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি পৌঁছে দেন। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী জাকির হোসেন জানান, অন্য ব্যাংকের আমানতকারীদের মতো পদ্মা ব্যাংকের গ্রাহকদেরও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহযোগিতা দিতে হবে। তারা স্মারকলিপি দিয়ে আপাতত অপেক্ষা করছেন এবং দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে আর্থিক সংকটে পড়া পদ্মা ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে বলে এর আগে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং আইসিবি এই ব্যাংকের শেয়ার কিনে নেয় এবং বর্তমানে ব্যাংকটির সিংহভাগ শেয়ারের মালিকানা তাদের হাতে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটির বিপুল পরিমাণ বিতরণ করা ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে এবং বড় অংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে। গ্রাহকদের এই আন্দোলন ও অর্থ ফেরতের দাবি দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের আস্থার সংকটের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।




































