অর্থনীতি ডেস্ক: থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়ে সরকারের মনে কোনো ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। অনেক সময় বিভিন্ন মহলে এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি বিদ্যমান নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
বৈঠকে আলোচনা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে সমস্যাগুলো বিরাজ করছে, সেগুলোকে সবাই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশ্ব ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের ট্রেজারি দপ্তর এবং বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এই বাস্তবতার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে আইএমএফের সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণের পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত দশ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত প্রতিনিধি দলটি বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে।
উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনায় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যাংক ও আর্থিক খাত এবং জ্বালানি খাতের সংস্কারের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে বলে জানান তিতুমীর। তিনি জানান যে নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ইশতেহারেই সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। করহার না বাড়িয়ে বরং করব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং কর প্রশাসনের ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করব্যবস্থা ডিজিটাল করার এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন।
ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা জানান যে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা তাদের আমানত ফেরত পাচ্ছেন এবং আমানত দেওয়ার সময় অর্থ কেটে রাখার আলোচনা থেকেও সরকার সরে এসেছে। পূর্বের সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে উঠতে প্রায় চল্লিশ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এবং রাজস্ব আয় চাঙ্গা করতে সরকার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের এসব সার্বিক উদ্যোগ এবং সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীরাও একমত পোষণ করেছেন বলে দাবি করেছেন অর্থ উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক আলোচনা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





































