ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে; প্রেস সচিব Logo কোনো সম্প্রদায়কে ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা উচিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শেরপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু-হামের রোগীর ঢল Logo ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার Logo জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দৃশ‍্যত ‘জিম্মিদশায় আবদ্ধ’: টিআইবি Logo শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাতুজ জুম্মা গ্রেপ্তার Logo ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান: জরিমানার অর্থ মৃতদের পরিবারকে দেওয়ার প্রস্তাব দেবেন ডিএসসিসি প্রশাসক Logo প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা-সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ Logo খাদ্যের পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে Logo পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন, সম্পাদক শিবলী

১ বছরে স্মার্টফোনের বিক্রি নেমে গেল ১৪ বছরের তলানিতে

প্রযুক্তি ডেস্ক: মেমোরি চিপের সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে বাড়তি চাহিদার কারণে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ এক পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের মন্দা পরিস্থিতি আরও বেশি ঘনীভূত হয়েছে। গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে এই ডিভাইসের বিক্রি গত চৌদ্দ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন বিক্রির সূচক সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর থেকেই এই খাতে ধারাবাহিক মন্দা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফোল্ডএবল ডিসপ্লে এবং ফাইভজি প্রযুক্তির মতো সংযুক্তি আসলেও নির্মাতাদের উদ্ভাবন ছিল মূলত পুরনো সুবিধারই সামান্য রূপান্তর মাত্র। এর ফলে প্রতি বছর পুরনো সেট বদলে নতুন ডিভাইস কেনার প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিক্রিতে এই ধসের পেছনে মেমোরি চিপের সংকট মূল ভূমিকা পালন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে চিপের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং মেমোরি যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ও যন্ত্রাংশের এই বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত সরাসরি ক্রেতাদের ওপরই চাপানো হয়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্মার্টফোনের খুচরা মূল্য গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পি জৈন মন্তব্য করেছেন যে, মেমোরি যন্ত্রাংশের চরম সংকট স্মার্টফোনের বাজারকে তুলনামূলক বেশি সতর্ক ও বাছাইমুখী এক ধাপে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল নির্মাতাদের ব্যবসায়িক কৌশলই বদলাচ্ছে না, বরং ক্রেতাদের ডিভাইস কেনার অভ্যাসকেও ব্যাপকভাবে বদলে দিচ্ছে। আকাশচুম্বী দামের কারণে ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে পুরনো ফোন ব্যবহার করছেন।

উৎপাদন খরচ না কমা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে সতর্ক করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো বছরজুড়ে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ সার্বিকভাবে চৌদ্দ শতাংশ কমে দাঁড়াতে পারে। সার্বিক এই ঘাটতি সামাল দিতে স্মার্টফোন নির্মাতারা কম দামি ফোনের উৎপাদন কমিয়ে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির হ্যান্ডসেট তৈরিতে বেশি নজর দিতে পারে।

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে; প্রেস সচিব

১ বছরে স্মার্টফোনের বিক্রি নেমে গেল ১৪ বছরের তলানিতে

প্রকাশিত ০৯:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: মেমোরি চিপের সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে বাড়তি চাহিদার কারণে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ এক পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের মন্দা পরিস্থিতি আরও বেশি ঘনীভূত হয়েছে। গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে এই ডিভাইসের বিক্রি গত চৌদ্দ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালে বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন বিক্রির সূচক সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর থেকেই এই খাতে ধারাবাহিক মন্দা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফোল্ডএবল ডিসপ্লে এবং ফাইভজি প্রযুক্তির মতো সংযুক্তি আসলেও নির্মাতাদের উদ্ভাবন ছিল মূলত পুরনো সুবিধারই সামান্য রূপান্তর মাত্র। এর ফলে প্রতি বছর পুরনো সেট বদলে নতুন ডিভাইস কেনার প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিক্রিতে এই ধসের পেছনে মেমোরি চিপের সংকট মূল ভূমিকা পালন করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে চিপের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং মেমোরি যন্ত্রাংশের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ও যন্ত্রাংশের এই বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত সরাসরি ক্রেতাদের ওপরই চাপানো হয়েছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্মার্টফোনের খুচরা মূল্য গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পি জৈন মন্তব্য করেছেন যে, মেমোরি যন্ত্রাংশের চরম সংকট স্মার্টফোনের বাজারকে তুলনামূলক বেশি সতর্ক ও বাছাইমুখী এক ধাপে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল নির্মাতাদের ব্যবসায়িক কৌশলই বদলাচ্ছে না, বরং ক্রেতাদের ডিভাইস কেনার অভ্যাসকেও ব্যাপকভাবে বদলে দিচ্ছে। আকাশচুম্বী দামের কারণে ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে পুরনো ফোন ব্যবহার করছেন।

উৎপাদন খরচ না কমা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই খাত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম বলে সতর্ক করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো বছরজুড়ে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ সার্বিকভাবে চৌদ্দ শতাংশ কমে দাঁড়াতে পারে। সার্বিক এই ঘাটতি সামাল দিতে স্মার্টফোন নির্মাতারা কম দামি ফোনের উৎপাদন কমিয়ে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির হ্যান্ডসেট তৈরিতে বেশি নজর দিতে পারে।