প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নতুন ধরনের জৈব অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি এবং এর ভয়াবহতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ-এর প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম। সাম্প্রতিক এক ভাষণে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান, যার ফলে এআই প্রযুক্তি কীভাবে জৈব অস্ত্রের মতো বিপজ্জনক উপাদান তৈরিতে সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার করে ক্ষতিকর প্যাথোজেন ও বিষাক্ত পদার্থ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই ধরনের গোষ্ঠী এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে, যার মধ্যে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই একক বা ছোট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অন্যতম। তারা গ্যারেজে বসে ক্ষতিকর উপাদান তৈরির চেষ্টা চালালে এআই চ্যাটবট প্রয়োজনীয় তথ্য সাজানো ও কারিগরি জটিলতা সমাধানে সহায়িকা হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া বিপুল অর্থায়ন ও গবেষণাগার থাকা শক্তিশালী রাষ্ট্র বা সংস্থাসমূহ এআই ব্যবহার করে দক্ষ বিজ্ঞানীদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও বেশি প্রাণঘাতী উপাদান তৈরির উপায় খুঁজছে। এমন প্রেক্ষাপটে গবেষকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এআই চ্যাটবটের সুরক্ষা দেয়াল ভেঙে ক্ষতিকর ভাইরাস বা বিষাক্ত উপাদান নিয়ে কাজ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এমআইটি ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা শিক্ষার্থীরাও এআই সহায়তায় অল্প সময়ে মহামারি তৈরিকারী প্যাথোজেন চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি বেলুন ব্যবহার করে আকাশ থেকে জৈব অস্ত্র ছড়ানোর নির্দেশনা বা প্রতিষেধক প্রতিরোধী প্যাথোজেন রূপান্তরের প্রক্রিয়াও ব্যাখ্যা করছে এই প্রযুক্তি। জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং ক্ষতিকর জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টার মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণে বিশ্বজুড়ে বায়ো-সিকিউরিটি নিয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এআই দিয়ে তৈরি প্রথম কৃত্রিম ভাইরাস উন্মোচনের ঘটনা এই শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে তথ্য বা লিখিত নির্দেশনা পেলেও অনভিজ্ঞদের পক্ষে বাস্তবে জৈব অস্ত্র তৈরি করা বেশ জটিল ও কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিংস কলেজ লন্ডন ও জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, বাস্তবভিত্তিক সূক্ষ্ম জ্ঞান, পরীক্ষাগারের সঠিক প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান ও সরঞ্জামের সুযোগ না থাকলে কেবল এআই দিয়ে বড় ক্ষতি করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও অপব্যবহার রোধে কিছু কোম্পানি নিজস্ব পদক্ষেপ নিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো সরকারি নীতি বা নিয়ন্ত্রণ এখনও কার্যকর করা হয়নি।
এমতাবস্থায় এআই মডেলগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জৈব তথ্যের ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম ডিএনএ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর জন্য গ্রাহক যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠেছে। জৈব অস্ত্রের এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা করতে না পারলে তা ভবিষ্যতে মানবজাতির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






































