আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন নিজেই এই অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। ইউনূস সেন্টার থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পুরস্কার বিতরণের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হিলারি ক্লিনটন এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি যৌথভাবে এই সম্মাননা প্রদান করে থাকে।
এবারের আসরে মুহাম্মদ ইউনূসসহ মোট চারজনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তার সঙ্গে ভারতের রিমা নানাবাতি এবং ফ্যাশন ডিজাইনার টরি বার্শকেও হিলারি ক্লিনটন পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া জর্ডানের মুনা সুখতিয়ানকে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি অ্যাম্বাসেডর্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাসটন হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রায় চারশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশের নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত করার ক্ষেত্রে অধ্যাপক ইউনূসের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে অধ্যাপক ইউনূস নারীদের যেভাবে স্বাবলম্বী করেছেন তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লিনটন পরিবারের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৫ সালে হিলারি ক্লিনটন তার মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশ সফরকালে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শন করেছিলেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় মুহাম্মদ ইউনূস জানান যে, গ্রামীণ ব্যাংকের পঞ্চাশ বছর উদযাপনের এই সময়ে এই স্বীকৃতি অত্যন্ত অর্থবহ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীরা আজ নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছেন এবং নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করছেন। অনুষ্ঠানে পরবর্তী প্রজন্মকে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে অধ্যাপক ইউনূসের মেয়ের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






































