আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার তীব্র বিমান হামলার মুখে ইউক্রেনে সামরিক প্রযুক্তি সেবা ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই স্টারশিল্ড পরিষেবায় এই বিধিনিষেধ দেওয়ায় কিইভের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের পর স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এই অভিযোগের জবাবে স্পেসএক্স প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, স্টারশিল্ড ব্যবহারের ওপর আরোপিত যেকোনো শর্ত বা পরিবর্তনের মূল দায় মার্কিন সরকার এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। তার দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটনই এই সিস্টেমের আসল নিয়ন্ত্রক হওয়ায় এর ব্যবহারের সীমা নির্ধারণের চূড়ান্ত এখতিয়ার কেবল মার্কিন সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। তবে মাস্কের এই মন্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মূলত সরকারি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্টারশিল্ড। বাণিজ্যিক স্টারলিংকের মূল প্রযুক্তি ও রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে এটি গড়ে তোলা হলেও এর সুরক্ষাব্যবস্থা অনেক বেশি উন্নত। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, নিরাপদ বৈশ্বিক যোগাযোগ এবং সামরিক বা গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি বহন করার কাজে এই সেবা ব্যবহার করা হয়।
বাণিজ্যিক স্টারলিংক সেবা কেবল বেসামরিক ও আত্মরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও স্টারশিল্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। স্টারলিংক বিশ্বজুড়ে দুর্গম অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করলেও স্টারশিল্ড বিশেষ ক্রিপ্টোগ্রাফিক সক্ষমতা ও এনক্রিপশনওয়ালা টার্মিনালের মাধ্যমে গোপন সরকারি যোগাযোগ নিশ্চিত করে। মার্কিন স্পেস ফোর্সের সাথে চুক্তি অনুযায়ী নিম্ন ভূ-কক্ষপথে যোগাযোগ ও সেন্সিং নেটওয়ার্ক তৈরির কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।




































