আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন ও প্রতিবাদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে বিভিন্ন যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভগুলোতে পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচারে আটকের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। দেশটির সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার স্বীকৃত থাকলেও জনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ নানা কৌশলে এসব আন্দোলন দমন করছে।
বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ভারতে গত এক দশকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে অনেক বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দেশটিতে প্রায় ১০ হাজার ৬৪২টি বিক্ষোভের ঘটনা নথিভুক্ত হলেও তা পরবর্তীতে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সময়ে সহিংস বা উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পক্ষ থেকেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হার বেড়েছে। তবে আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইনি সীমাবদ্ধতা থাকার পরও বাস্তবে তা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আইন অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে পুলিশ প্রথমে ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করা এবং সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ন্যূনতম বলপ্রয়োগের বিধান থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটার অভিযোগ রয়েছে। বিক্ষোভ দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত ব্যারিকেড, লাঠিপেটা, জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস এবং পেলেট গানের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকায় এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও অনেক সময় তার লঙ্ঘন ঘটে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ঔপনিবেশিক আমল থেকে লাঠিপেটার প্রচলন রয়েছে এবং সরকারি হিসাব অনুযায়ী অতীতে এমন ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া জলকামান ও কাঁদুনে গ্যাসের অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহারের ফলে আন্দোলনকারীদের গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সংবেদনশীল স্থানে আঘাত কিংবা বদ্ধ জায়গায় রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। পেলেট গানের মতো বিতর্কিত অস্ত্রের ব্যবহারও জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিক্ষোভ দমনে পুলিশের এই কড়াকড়ি ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়টি বর্তমানে ভারতের আইনি অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে নির্দেশিকা উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তাই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে স্বচ্ছতা এবং সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সংশ্লিষ্টরা।



































