ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন সেই ওয়াকিল হোসেন বগা

অপরাধ ডেস্ক: চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। খুলশী থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় জামিন আবেদন করলে আদালতের বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত রবিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পিপি অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের প্রসিকিউশন শাখা জানিয়েছে, বেলা ১২টার পর আদালতে উপস্থিত হয়ে দুপুর দুইটার দিকে শুনানিতে অংশ নেন ওই অভিযুক্ত নেতা।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতারে একাধিকবার অভিযান চালালেও তাকে আটক করতে পারেনি। গত ৬ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে তিনি অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ভবনটি ঘিরে ফেলেছিল। সে সময় সেখানে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় পুলিশ তাকে ধরতে গেলে তার অনুসারীরা হামলা চালায়। ওই হামলায় ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় ষোলো বছর বয়সী এক কিশোর সবজি বিক্রেতা খুন হওয়ার মামলায় তাকে আসামি করা হয়। কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর সব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলা এই আসামির আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় এসেছে। আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করায় তাকে এখন বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধের প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয়

আখাউড়ার ২৯ মন্দিরে পূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ

আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন সেই ওয়াকিল হোসেন বগা

প্রকাশিত ০৩:৫২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। খুলশী থানার একটি চাঁদাবাজি মামলায় জামিন আবেদন করলে আদালতের বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত রবিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পিপি অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের প্রসিকিউশন শাখা জানিয়েছে, বেলা ১২টার পর আদালতে উপস্থিত হয়ে দুপুর দুইটার দিকে শুনানিতে অংশ নেন ওই অভিযুক্ত নেতা।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন বগার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতারে একাধিকবার অভিযান চালালেও তাকে আটক করতে পারেনি। গত ৬ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে তিনি অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ভবনটি ঘিরে ফেলেছিল। সে সময় সেখানে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় পুলিশ তাকে ধরতে গেলে তার অনুসারীরা হামলা চালায়। ওই হামলায় ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় ষোলো বছর বয়সী এক কিশোর সবজি বিক্রেতা খুন হওয়ার মামলায় তাকে আসামি করা হয়। কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর সব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলা এই আসামির আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় এসেছে। আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করায় তাকে এখন বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধের প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।