ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সরকারি চাকুরেরা ভাতা পাবেন আগের মূল বেতন ধরে Logo ঐতিহাসিক পানাম নগরী ও জাদুঘর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo প্যাকেটেই থাকুক ক্ষতিকর উপাদানের সতর্কবার্তা, এক মাসের প্রচারে নামছে তরুণেরা Logo মিলিতাওকে ফিরে পেয়ে খুশি কুকুরেইয়া Logo ‘আসুন, নিজের সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি’: নগর ভবনে প্রধানমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রী আসছেন, রং লাগল ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবীদের আবক্ষ মূর্তিতে Logo নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী Logo মিষ্টি থেকে ইশরাক: কী বার্তা দিচ্ছেন তারেক রহমান? Logo ‘কিশোর গ্যাং’: উত্থান ঠেকাতে উপজেলাগুলোয় কমিটি করছে সরকার Logo প্রধানমন্ত্রী মাদকবিরোধী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন: ইশরাক

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ডেস্ক: ঢাকাকে একটি স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সবার কথা বাদ দিয়ে কেবল নিজের সন্তানের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই একটি সুস্থ ও দূষণমুক্ত শহর গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, কোনো অভিভাবকই নিজ সন্তানকে নোংরা, জীবাণুযুক্ত কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় করতে চান না। শিশুরা শুধু নিজ বাড়ি বা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠসহ পুরো শহরে তাদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। তাই কেবল নিজ এলাকা নয়, সমগ্র রাজধানী শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই জঞ্জাল ও বর্জ্য সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হলে ধীরে ধীরে ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

এ সময় বিগত দশকগুলোতে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা ও সচেতনতার মাধ্যমেই কেবল বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। শুধু বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে আক্ষেপ না করে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পরামর্শ দেন তিনি। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ওই ব্যক্তি ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির কথা স্বীকার করেছেন। সড়ক নির্মাণ এবং বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের আধুনিকায়নের চলমান উদ্যোগগুলো আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মমূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল অন্যের সমালোচনা না করে নিজের দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে, তা নিজেদেরই পর্যালোচনা করা উচিত। সভা শুরুর আগে তিনি নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি, ভূমিকম্পের হালনাগাদ তথ্য, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি এবং ডিএসসিসির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি ভিডিওচিত্রও উপভোগ করেন। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

সরকারি চাকুরেরা ভাতা পাবেন আগের মূল বেতন ধরে

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৫:০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ডেস্ক: ঢাকাকে একটি স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সবার কথা বাদ দিয়ে কেবল নিজের সন্তানের সুরক্ষার কথা চিন্তা করেই একটি সুস্থ ও দূষণমুক্ত শহর গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, কোনো অভিভাবকই নিজ সন্তানকে নোংরা, জীবাণুযুক্ত কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় করতে চান না। শিশুরা শুধু নিজ বাড়ি বা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠসহ পুরো শহরে তাদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। তাই কেবল নিজ এলাকা নয়, সমগ্র রাজধানী শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই জঞ্জাল ও বর্জ্য সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হলে ধীরে ধীরে ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ঘটানো সম্ভব।

এ সময় বিগত দশকগুলোতে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা ও সচেতনতার মাধ্যমেই কেবল বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। শুধু বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে দেশে ফিরে আক্ষেপ না করে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পরামর্শ দেন তিনি। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ওই ব্যক্তি ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতির কথা স্বীকার করেছেন। সড়ক নির্মাণ এবং বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের আধুনিকায়নের চলমান উদ্যোগগুলো আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মমূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল অন্যের সমালোচনা না করে নিজের দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে, তা নিজেদেরই পর্যালোচনা করা উচিত। সভা শুরুর আগে তিনি নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি, ভূমিকম্পের হালনাগাদ তথ্য, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি এবং ডিএসসিসির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি ভিডিওচিত্রও উপভোগ করেন। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।