রাজধানী ডেস্ক: রাজশাহীর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ জারির দিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি ওই আদেশে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পর ইউসুফ আলী তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন এবং রাতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে রাজশাহী ত্যাগ করেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সফর শেষে হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানানোর সময় এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চৌদ্দ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় বিভাগীয় কমিশনার তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে তাকে বাধা দেন এবং লাইনে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনার সঙ্গে তার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা সরকারি প্রজ্ঞাপন থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সাংবাদিকরা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ইউসুফ আলী এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী ফেসবুকে প্রটোকল ভাঙার কারণে ওএসডি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পোস্ট দিয়েছেন।
এর আগে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ ফলাফল নিয়ে নাটোরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর গত আগস্ট মাসে রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ইউসুফ আলীকে পদায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন দায়িত্বে যোগদানের মাত্র দুই মাসের মাথায় তাকে আবারও প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো। এই ঘটনাটি প্রশাসনিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।







































