আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নানা সংকটের মাঝেই মেয়াদ শেষ করতে চলেছেন বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আগামী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি বিশ্ব এই সংস্থার নেতৃত্বে আসবেন নতুন কেউ। সংস্থাটির ইতিহাসে দশম এই মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জোর কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এবারের নির্বাচনটি বেশ কিছু কারণে অত্যন্ত ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কারণ দীর্ঘ ৮১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের সনদের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ পরিষদ মহাসচিব নিয়োগ করলেও, এর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে নিরাপত্তা পরিষদ। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মনোনীত প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রচার চালালেও, নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ‘ভিটো’ ক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের সমর্থন ও অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রার্থীর পক্ষেই এই শীর্ষ পদে আসীন হওয়া কার্যত অসম্ভব। আঞ্চলিক পালাবদলের অনানুষ্ঠানিক রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে কাউকে বেছে নেওয়ার জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে।
চলমান প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক ভোটে তাদের যোগ্যতা ও সমর্থন যাচাই করা হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী এই দৌড়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। এ ছাড়াও একুয়েডরের ইভন আ-বাকি, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার মনোনীত মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা গারসেস, উগান্ডার ওলার ওতুনু, সেনেগালের ম্যাকি সাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের লানা নুসেইবেহ এই পদের জন্য লড়ছেন। তবে সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও প্রায় সব শীর্ষ প্রার্থীই নিরাপত্তা পরিষদের কোনো না কোনো স্থায়ী সদস্যের আপত্তির মুখে পড়েছেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর ভূরাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রার্থী বাছাইয়ে অঞ্চল বা লিঙ্গের চেয়ে যোগ্যতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাছাড়া রঙিন ব্যালটে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক ভোটে প্রার্থীদের সমর্থন স্পষ্ট হলেও স্থায়ী সদস্যদের বিরোধিতার কারণে শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো প্রার্থীও প্রতিযোগিতায় যুক্ত হতে পারেন। নতুন এই মহাসচিবের কাঁধে কেবল কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর দায়িত্বই থাকবে না, বরং বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলায় সংস্থাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ারও বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।





































