ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে সাফল্য

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি এবং ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে নিরাপদ করলা চাষে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন মাহমুদ আল-ইমরান নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা। উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের এই বাসিন্দা আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে করলা আবাদ করায় চাষাবাদের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও করলা চাষের প্রতি নতুন করে আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এই কৃষি পদ্ধতি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান জানিয়েছেন, জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করে মালচিং করায় অবাঞ্ছিত আগাছা জন্মাতে পারে না এবং মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। ফলে জমি প্রস্তুত করা, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা এবং সেচ দেওয়ার খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। তিনি এক বিঘা জমিতে ‘এগ্রো ওয়ান লিডার’ জাতের চারা রোপণের মাত্র ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে সতেজ সবজি সংগ্রহ শুরু করেছেন। উৎপাদিত করলার মান খুবই ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর বাড়তি চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করতে তার মোট খরচ হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো। এরই মধ্যে তিনি পাঁচ দফায় ক্ষেত থেকে ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা তুলেছেন এবং স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে এই ক্ষেত থেকেই প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। কম খরচে উৎপাদিত হওয়ায় এই সবজির বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাজারে অনেক বেশি।

ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বিভিন্ন রোগবালাই এবং অতিরিক্ত শ্রমিক খরচের কারণে কৃষকদের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া অনেক সময় বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমন এক বাস্তবতায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি হিসেবে মালচিং পদ্ধতি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরানই সর্বপ্রথম মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা আবাদে এই সফলতা অর্জন করেছেন।

ভেড়ামারা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ক্ষেত পরিদর্শন করে কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ এবং সুষম সার প্রয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের নতুন এই দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ায় বাজারে এই করলার বিশেষ বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগের এমন আন্তরিক সহযোগিতার ফলে আগামী দিনে এই অঞ্চলে আরও অনেক উদ্যোক্তা আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

বন্ধুসভার বন্ধনে এক দেশ, এক হৃদয়

মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে সাফল্য

প্রকাশিত ০৯:০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি এবং ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে নিরাপদ করলা চাষে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন মাহমুদ আল-ইমরান নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা। উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের এই বাসিন্দা আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে করলা আবাদ করায় চাষাবাদের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় এলাকার অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও করলা চাষের প্রতি নতুন করে আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এই কৃষি পদ্ধতি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান জানিয়েছেন, জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করে মালচিং করায় অবাঞ্ছিত আগাছা জন্মাতে পারে না এবং মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। ফলে জমি প্রস্তুত করা, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা এবং সেচ দেওয়ার খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। তিনি এক বিঘা জমিতে ‘এগ্রো ওয়ান লিডার’ জাতের চারা রোপণের মাত্র ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে সতেজ সবজি সংগ্রহ শুরু করেছেন। উৎপাদিত করলার মান খুবই ভালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর বাড়তি চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করতে তার মোট খরচ হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো। এরই মধ্যে তিনি পাঁচ দফায় ক্ষেত থেকে ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা তুলেছেন এবং স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে এই ক্ষেত থেকেই প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। কম খরচে উৎপাদিত হওয়ায় এই সবজির বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাজারে অনেক বেশি।

ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বিভিন্ন রোগবালাই এবং অতিরিক্ত শ্রমিক খরচের কারণে কৃষকদের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া অনেক সময় বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমন এক বাস্তবতায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি হিসেবে মালচিং পদ্ধতি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরানই সর্বপ্রথম মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা আবাদে এই সফলতা অর্জন করেছেন।

ভেড়ামারা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে ক্ষেত পরিদর্শন করে কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ এবং সুষম সার প্রয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের নতুন এই দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ায় বাজারে এই করলার বিশেষ বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগের এমন আন্তরিক সহযোগিতার ফলে আগামী দিনে এই অঞ্চলে আরও অনেক উদ্যোক্তা আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।