ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সিডনিতে ডেপুটি মেয়র এলিজা রহমানকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা Logo নবীনদের বরণ করল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি Logo উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি Logo জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের দায়িত্বে অধ্যাপক নাছির Logo ছায়ানটে সুরে সুরে কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দীনকে স্মরণ Logo ব্যাট-বলের জমজমাট দিনে অ‍্যাকারম‍্যানের ৯৫, স্টার্কের ৬ উইকেট Logo কেজি দরে পাঠ্যবই বিক্রির সময় শিক্ষক বললেন, ‘সম্মানী দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’ Logo আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনার আহ্বান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের Logo জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে ভারতকে ‘স্বার্থ’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে: আখতার Logo জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : হুমায়ূন কবির

কবে থেকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময় ও সুবিধাজনক অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে। সম্প্রতি পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়ায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও কারিগরি বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এই গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন। প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বর্তমান সরকারের সাহসিকতার ফলেই নির্বাচনের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে।

নদীর পাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন বলে মন্তব্য করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তাঁদের জীবনমানের উন্নয়ন ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করেই বর্তমান সরকার এই মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে তাঁর জীবদ্দশায় প্রথম এই প্রকল্পটি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং তখন ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হয়েছিল। এ ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই ব্যারাজ নির্মিত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট অনেকাংশেই কমে যাবে এবং দেশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, উন্নত নৌযোগাযোগ, মৎস্য খাতের বিকাশ এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন যে ব্যারাজটি বাস্তবায়িত হলে পাবনা ও রাজবাড়ীসহ ১৯টি জেলার সামগ্রিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে এবং এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও বড় ধরনের সুফল বয়ে আনবে। বর্ষার সময়ে এই ব্যারাজের ৭৮টি গেট সম্পূর্ণ খোলা রাখা হবে, যা সামগ্রিক পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ করে তুলবে।

উক্ত আলোচনা সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়িত হলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা নদীপাড়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হবে। দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তি দেশের সামগ্রিক জলসম্পদ ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

জনপ্রিয়

সিডনিতে ডেপুটি মেয়র এলিজা রহমানকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা

কবে থেকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু, জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৬:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময় ও সুবিধাজনক অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে। সম্প্রতি পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়ায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও কারিগরি বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এই গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করবেন। প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বর্তমান সরকারের সাহসিকতার ফলেই নির্বাচনের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে।

নদীর পাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন বলে মন্তব্য করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তাঁদের জীবনমানের উন্নয়ন ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করেই বর্তমান সরকার এই মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে তাঁর জীবদ্দশায় প্রথম এই প্রকল্পটি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং তখন ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হয়েছিল। এ ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। পাবনার সুজানগর থেকে রাজবাড়ী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই ব্যারাজ নির্মিত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট অনেকাংশেই কমে যাবে এবং দেশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, উন্নত নৌযোগাযোগ, মৎস্য খাতের বিকাশ এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন যে ব্যারাজটি বাস্তবায়িত হলে পাবনা ও রাজবাড়ীসহ ১৯টি জেলার সামগ্রিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় আট মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের দারুণ সুযোগ তৈরি হবে এবং এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও বড় ধরনের সুফল বয়ে আনবে। বর্ষার সময়ে এই ব্যারাজের ৭৮টি গেট সম্পূর্ণ খোলা রাখা হবে, যা সামগ্রিক পানিপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ করে তুলবে।

উক্ত আলোচনা সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়িত হলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা নদীপাড়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হবে। দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তি দেশের সামগ্রিক জলসম্পদ ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।