ক্যাম্পাস ডেস্ক: পূর্বের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে চলা দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে শ্রেণিকক্ষে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে প্রলম্বিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি কঠোরভাবে বজায় থাকবে। একই সঙ্গে আগের উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতির পটভূমিতে গত সপ্তাহে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি দেন, যেখানে তারা পড়ালেখার ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ক্লাসের পরিবেশ নিশ্চিত করার আকুল আবেদন জানান। পরবর্তীতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাছানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভাতেও একই ধরনের অনমনীয় অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা এবং ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে যান শিক্ষক-কর্মকর্তারা। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত অক্টোবরের মাঝামা সময়ে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে গিয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে গত ১৬ অক্টোবর অনলাইনে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের সুপারিশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে। এই ধারাবাহিকতায় ইউজিসির গঠিত কমিটি চুয়েট ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং উপাচার্য সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো বেশ জটিল রয়েছে।



































