ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

এআই জোয়ারে কেন ডেটা সেন্টারের নতুন ভরসা ‘ফিউয়েল সেল’?

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট বিপুল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন ভরসা হয়ে উঠছে ফিউয়েল সেল প্রযুক্তি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি জায়ান্টরা জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা এড়াতে নিজস্ব প্রাঙ্গণেই এই সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ এই খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ লাফিয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রচলিত উপায়ে জ্বালানি পোড়ানোর পরিবর্তে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফিউয়েল সেলে প্রাকৃতিক গ্যাস বা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটিয়ে প্রত্যক্ষভাবে শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। প্রযুক্তি কোম্পানি ব্লুম এনার্জি সলিড-অক্সাইড প্রযুক্তিতে শতভাগ খাঁটি hydrogen ব্যবহারের সুযোগ রাখলেও, ফিউয়েল সেল এনার্জি মল্টেন কার্বনেট প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত হাইড্রোজেন মিশ্রণ ব্যবহার করছে। বড় আকারের এআই কম্পিউটিং সরঞ্জাম ও কুলিং সিস্টেম চব্বিশ ঘণ্টা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন শক্তির প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে বড় আকারের নতুন সংযোগ স্থাপন করতে দীর্ঘ সময় লাগায় কোম্পানিগুলো এই অন-সাইট পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে।

ব্লুম এনার্জির প্রধান নির্বাহী কে আর শ্রিধর জানিয়েছেন, ওরাকলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দুই মাসেরও কম সময়ে তারা ইউটাহ সাইটে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। ফিউয়েল সেল এনার্জির প্রধান নির্বাহী জেসন ফিউ উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে বিদ্যুতের দামের চেয়ে কত দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। রাইস্টাড এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নতুন ডেটা সেন্টারের প্রায় চল্লিশ শতাংশই সরাসরি জাতীয় গ্রিডের বদলে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া, গ্যাস পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় ফিউয়েল সেলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষতিকর নিঃসরণ অনেক কম হয়।

চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই খাতের উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং তাদের নিট মুনাফা ও আয়ের পূর্বাভাস বেড়ে গেছে। ব্লুম এনার্জি ইতিমধ্যে ওরাকলের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং ফিউয়েলসেল এনার্জি তাদের ব্যবসার বড় অংশ এই খাত থেকে আসার আশা করছে। রাইস্টাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিল্পের বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার বুকের আকার প্রায় নয় গিগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউয়েল সেলের বার্ষিক বৈশ্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানের এক দশমিক আট গিগাওয়াট থেকে বেড়ে চার গিগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ফিউয়েল সেল বসানোর পাশাপাশি গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার স্থাপন এবং সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় ব্যয় হয়। তা সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে জাতীয় গ্রিডের পাশাপাশি অন-সাইট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিউয়েল সেলের ব্যবহার একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রসার মূলত সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তি সরবরাহ এবং দ্রুত অবকাঠামো ও জ্বালানি নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করবে।

জনপ্রিয়

ফেইসবুকে ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’ লিখে পোস্ট, বহিষ্কার যুবদল নেতা

এআই জোয়ারে কেন ডেটা সেন্টারের নতুন ভরসা ‘ফিউয়েল সেল’?

প্রকাশিত ০২:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট বিপুল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন ভরসা হয়ে উঠছে ফিউয়েল সেল প্রযুক্তি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি জায়ান্টরা জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা এড়াতে নিজস্ব প্রাঙ্গণেই এই সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ এই খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ লাফিয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রচলিত উপায়ে জ্বালানি পোড়ানোর পরিবর্তে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফিউয়েল সেলে প্রাকৃতিক গ্যাস বা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটিয়ে প্রত্যক্ষভাবে শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। প্রযুক্তি কোম্পানি ব্লুম এনার্জি সলিড-অক্সাইড প্রযুক্তিতে শতভাগ খাঁটি hydrogen ব্যবহারের সুযোগ রাখলেও, ফিউয়েল সেল এনার্জি মল্টেন কার্বনেট প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত হাইড্রোজেন মিশ্রণ ব্যবহার করছে। বড় আকারের এআই কম্পিউটিং সরঞ্জাম ও কুলিং সিস্টেম চব্বিশ ঘণ্টা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন শক্তির প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে বড় আকারের নতুন সংযোগ স্থাপন করতে দীর্ঘ সময় লাগায় কোম্পানিগুলো এই অন-সাইট পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে।

ব্লুম এনার্জির প্রধান নির্বাহী কে আর শ্রিধর জানিয়েছেন, ওরাকলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের দুই মাসেরও কম সময়ে তারা ইউটাহ সাইটে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। ফিউয়েল সেল এনার্জির প্রধান নির্বাহী জেসন ফিউ উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে বিদ্যুতের দামের চেয়ে কত দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। রাইস্টাড এনার্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নতুন ডেটা সেন্টারের প্রায় চল্লিশ শতাংশই সরাসরি জাতীয় গ্রিডের বদলে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া, গ্যাস পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় ফিউয়েল সেলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষতিকর নিঃসরণ অনেক কম হয়।

চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই খাতের উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং তাদের নিট মুনাফা ও আয়ের পূর্বাভাস বেড়ে গেছে। ব্লুম এনার্জি ইতিমধ্যে ওরাকলের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং ফিউয়েলসেল এনার্জি তাদের ব্যবসার বড় অংশ এই খাত থেকে আসার আশা করছে। রাইস্টাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিল্পের বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার বুকের আকার প্রায় নয় গিগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউয়েল সেলের বার্ষিক বৈশ্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানের এক দশমিক আট গিগাওয়াট থেকে বেড়ে চার গিগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ফিউয়েল সেল বসানোর পাশাপাশি গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার স্থাপন এবং সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় ব্যয় হয়। তা সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে জাতীয় গ্রিডের পাশাপাশি অন-সাইট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিউয়েল সেলের ব্যবহার একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রসার মূলত সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তি সরবরাহ এবং দ্রুত অবকাঠামো ও জ্বালানি নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করবে।