লাইফস্টাইল ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে প্রিয়জন বা বন্ধুদের সঙ্গে চলার পথে ভুল বা অবহেলার ঘটনা ঘটলে সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে ‘আমি দুঃখিত’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্রেফ এইটুকু অনুশোচনা প্রকাশ করা প্রায়শই সম্পর্কের ক্ষতি পুরোপুরি মেরামত করতে পারে না। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা কেবল দুঃখ প্রকাশের শব্দ শুনতে চান না, তারা চান অপর পক্ষ তাদের মানসিক কষ্ট ও অন্যায়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করুক। তাই কার্যকরভাবে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে হলে ক্ষমা চাওয়ার প্রচলিত ধারার বাইরে এসে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
কানাডার উইলফ্রিড লরিয়ার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. জুডি ইটন এবং সম্পর্কবিষয়ক গবেষকদের মতে, ভুক্তভোগী এবং অপরাধীর মানসিকতার মধ্যে একটি বড় ধরনের ব্যবধান থাকে। আমেরিকান মনস্তত্ত্ববিদ রয় বাউমিস্টারের তত্ত্ব অনুযায়ী, যিনি অন্যায়ের শিকার হন তিনি আঘাতটিকে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর হিসেবে দেখেন, অথচ ভুলকারী ব্যক্তি বিষয়টিকে ছোট করে দেখেন। এই ধারণার ব্যবধান বা ‘ম্যাগনিচিউড গ্যাপ’ দূর না হওয়া পর্যন্ত পারস্পরিক সম্পর্কের ফাটল সহজে জোড়া লাগে না।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে কেবল একটি শুকনো ‘আই অ্যাম সরি’ বলা হয়েছিল, সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের মনে ক্ষমার প্রবণতা ছিল অত্যন্ত কম। বিজ্ঞানীরা একটি প্রতিযোগিতামূলক খেলার মাধ্যমে দেখেছেন যে, ভুলকারী ব্যক্তি নিজের দোষ স্পষ্টভাবে স্বীকার করলে চমৎকার ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। এমনকি অপরাধের তীব্রতা স্বীকার করার পর আলাদা করে ‘আই অ্যাম সরি’ শব্দটি বলা হলো কি না, তা ক্ষমার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
কার্যকর ক্ষমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নিজের কাজের দায়বদ্ধতা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা। ‘আমি দুঃখিত যদি তুমি কষ্ট পেয়ে থাকো’ কিংবা ‘আমি দুঃখিত তুমি রেগে আছ বলে’ এই ধরনের শর্তযুক্ত বা অজুহাতমূলক ক্ষমা কোনো ইতিবাচক ফল দেয় না। প্রকৃত ক্ষমা তখনই সফল হয় যখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে অপর পক্ষ তার মানসিক যন্ত্রণার গভীরতা উপলব্ধি করতে পেরেছে।





































