অর্থনীতি ডেস্ক: জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে অংশ নিয়ে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী ও অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে।
দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের হাজার হাজার পণ্য জাপানের বাজারে কোনো শুল্ক ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় বড় প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সহজ কাস্টমস ও করপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসনির্ভর প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠা এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে তিনি জাপানের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মকে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী দেশটির বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আগামী তিন থেকে পাঁচ দশকের অর্থনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




































