লাইফস্টাইল ডেস্ক: শৈশব থেকেই আমাদের সমাজে শেখানো হয় যে ব্যর্থতাই সফলতার মূল চাবিকাঠি এবং বারবার চেষ্টা করলেই সাফল্য আসে। তবে প্রতিযোগিতামূলক এই যুগে অনেকেই একটিমাত্র ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েন এবং সামনের পথ চলা বন্ধ করে দেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিবর্তনীয় মনস্তত্ত্বের নতুন গবেষণায় অবশ্য ভিন্ন এক তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে মানুষের জীবনে সফলতা ও ব্যর্থতা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
মনস্তত্ত্ববিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক অ্যাট নিউ প্যাল্টজের অধ্যাপক ড. গ্লেন গেহের নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তার মতে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক সহনশীলতা মূলত ব্যর্থতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। বিবর্তনীয় মনস্তত্ত্বের গবেষক ডেভিড বাস মানুষের এই মানসিক সহনশীলতাকে ত্বকের কড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। গবেষক গ্রেগ লুকিয়ানফ এবং জোনাথন হাইড দেখিয়েছেন যে প্রতিকূলতা থেকে অতিরিক্ত আড়ালে রাখলে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সহনশীলতা কমে যায়।
ড. গ্লেন গেহের এবং নিকোল ওয়েডবার্গ তাঁদের যৌথ বইয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে যার ব্যর্থতার সংখ্যা বেশি, তার বড় সফলতার সম্ভাবনাও বেশি। এই তত্ত্ব প্রমাণ করতে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক মায়া কার্দাস ও ড. গ্লেন গেহের যৌথভাবে প্রায় ২০০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর সমীক্ষা চালান। এই গবেষণার ফলাফল ২০২৫ সালের জুন মাসে নর্থ-ইস্টার্ন ইভোল্যুশনারি সাইকোলজি সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যারা জীবনে বেশি সফলতার কথা বলেছেন, তাদের ব্যর্থতার সংখ্যাও ছিল অনেক বেশি।
ব্রিটিশ সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনস-এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মজীবনের শুরুর দিকের বড় প্রত্যাখ্যান বা ব্যর্থতা কর্মীকে দীর্ঘমেয়াদে আরও দক্ষ করে তোলে। মনস্তাত্ত্বিকদের মতে পরীক্ষায় খারাপ ফল, পদোন্নতি না পাওয়া কিংবা ব্যবসায় লোকসানের মতো বিষয়গুলো মানসিক সহনশীলতা বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ড. গ্লেন গেহের পরামর্শ দিয়েছেন যে ব্যর্থতার পর নিজেকে দোষ না দিয়ে এটিকে শিক্ষার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। কারণ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সফলতার সিঁড়িটি মূলত ব্যর্থতার পাথর দিয়েই তৈরি হয়ে থাকে।





































