আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের রাশিয়া সফর এবং কিছু কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনও বেশ ক্ষীণ রয়েছে। মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লেও কিয়েভের ওপর রুশ সামরিক আগ্রাসন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যুদ্ধ থামানোর নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে প্রকৃত শান্তির পথ এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহে রুশ সফর শেষে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের হস্তক্ষেপে রাশিয়ার কারাগার থেকে এক মার্কিন নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন এবং মস্কো ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে আবুধাবিতে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে রুশ প্রতিনিধিদল। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে মার্কিন দূতের যুক্তি মস্কোর অবস্থান পুনর্বিবেচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহল। জেলেনস্কির অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন দূতের বৈঠকের পরও মস্কো তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আলোচনা চলার পাশাপাশি মূলত চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বিমান হামলা আরও জোরদার করতে পারে রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার যে দাবি মস্কো করে আসছে, তা ইউক্রেনের জন্য গ্রহণ করা অসম্ভব। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে রাশিয়া। ফলে এই আলোচনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
সবমিলিয়ে, ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে বর্তমান কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো নতুন আশার সঞ্চার করলেও মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। শান্তির শর্ত কার অনুকূলে যাবে তা নিয়ে তীব্র ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে এবং রাশিয়ার সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় সংঘাত অবসানের বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল হয়ে পড়েছে।




































