ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

লেকের দূষণ রোধ: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ভবনে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের নির্দেশ

রাজধানী ডেস্ক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার লেকগুলো দূষণমুক্ত করতে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণকাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি কারিগরি কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা এই সভায় উপস্থিত থেকে নিজ নিজ এলাকার পরিবেশগত পরিস্থিতি তুলে ধরেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজধানীর লেকের দূষণ পরিস্থিতি ও এর উৎস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণের সংস্থান রয়েছে, সেসব মালিকদের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় প্রচলিত ইমারত নির্মাণ আইন এবং ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী দোষী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে যে ১২৬৯টি ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, সেই তালিকা সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার সোসাইটিগুলোকে হস্তান্তর করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের কাঠামোগত নকশা আবশ্যিকভাবে রাজউক থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের কোনো আবেদন জমা পড়ার পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার জন্য রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় লেক এবং নালার সংযোগ বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই সময় পরিচালিত জরিপে দেখা গিয়েছিল, নির্দিষ্ট এলাকার অধিকাংশ বাড়ির পয়োবর্জ্য সরাসরি লেক ও পানি নিষ্কাশনের নালায় গিয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক এই সভায় লেকের পানির মান উন্নয়ন এবং উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় রাজউক চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন। লেকের দূষণ রোধে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ রাজধানীর পরিবেশ রক্ষায় এবং জনস্বাস্থ্য উন্নত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জনপ্রিয়

আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর: ড্যাব থেকে জাহিদ হোসেন বহিষ্কার

লেকের দূষণ রোধ: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ভবনে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের নির্দেশ

প্রকাশিত ০১:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ডেস্ক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার লেকগুলো দূষণমুক্ত করতে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণকাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি কারিগরি কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা এই সভায় উপস্থিত থেকে নিজ নিজ এলাকার পরিবেশগত পরিস্থিতি তুলে ধরেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজধানীর লেকের দূষণ পরিস্থিতি ও এর উৎস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণের সংস্থান রয়েছে, সেসব মালিকদের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় প্রচলিত ইমারত নির্মাণ আইন এবং ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী দোষী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে যে ১২৬৯টি ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, সেই তালিকা সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার সোসাইটিগুলোকে হস্তান্তর করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের কাঠামোগত নকশা আবশ্যিকভাবে রাজউক থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের কোনো আবেদন জমা পড়ার পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার জন্য রাজউককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় লেক এবং নালার সংযোগ বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই সময় পরিচালিত জরিপে দেখা গিয়েছিল, নির্দিষ্ট এলাকার অধিকাংশ বাড়ির পয়োবর্জ্য সরাসরি লেক ও পানি নিষ্কাশনের নালায় গিয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক এই সভায় লেকের পানির মান উন্নয়ন এবং উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় রাজউক চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন। লেকের দূষণ রোধে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ রাজধানীর পরিবেশ রক্ষায় এবং জনস্বাস্থ্য উন্নত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।