আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরদিন ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। এই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার জন্য ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় আরব দেশের তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই গোপন আলোচনার বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন এই সম্ভাব্য হামলাগুলো সংক্ষিপ্ত হলেও বেশ তীব্র প্রকৃতির হতে পারে। ইরান এই সামরিক আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য জোরালো চাপ দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, এই হামলার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া না হলে তিনি অবাক হবেন না।
উল্লেখ্য যে, নির্দিষ্ট একটি তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা পরিচালনা করেনি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি জানান, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব বিকল্প খোলা রেখেছে।
এদিকে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মুখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো শত্রুর হুমকির তাৎক্ষণিক এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন জবাব দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত আট মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল। এই দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন দেশ ও বিশ্ব অর্থনীতি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।



































