ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাবা হারানোর শোক সামলে জিপিএ ৫ লিজার, রিয়া হতে চান ব্যাংকার Logo সাজেকে ফের অবরোধ শুরু, তীব্র খাদ্য ও মানবিক সংকট Logo টানা তিন দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশের স্কুল-কলেজ Logo ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo দেড়শ বছর আগে মানুষের দেহের তাপমাত্রা বেশি ছিল, কিন্তু কেন? Logo মিরপুরে হামলা-সংঘর্ষের মামলায় আসামি সাড়ে ১০ হাজার, গ্রেপ্তার ২২ Logo গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে আগুন, আহত বিজিবি সদস্য Logo মেইকআপ না তুলেই ঘুম? ত্বকের পাশাপাশি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে Logo মুক্তির আগেই ৯০ কোটি রুপির চুক্তিতে শ্রদ্ধা কাপুরের ‘ইথা’ Logo পঞ্চম মৌসুমে ফিরছে নেটফ্লিক্সের ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’

দেড়শ বছর আগে মানুষের দেহের তাপমাত্রা বেশি ছিল, কিন্তু কেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক: উনিশ শতকের তুলনায় আধুনিক মানুষের দেহের গড় তাপমাত্রা অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। জার্মানির চিকিৎসক কার্ল ভনডারলিখ ১৮৬০-এর দশকে ২৫ হাজার রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে সুস্থ মানুষের গড় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট নির্ধারণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই মাপকাঠি সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। তবে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া একাধিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গত দেড়শ বছরে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ জুলিয়ে পারসনেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান প্রাপ্তবয়স্কদের নতুন গড় তাপমাত্রা ৩৬.৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রায় ৯৭.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি। এমনকি উন্নত বিশ্বের বাইরেও এই পরিবর্তনের ধারা লক্ষ্য করা গেছে। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের গবেষক আর্ড্রিয়ান জাগি জানিয়েছেন, অ্যামাজন রেইনফরেস্টের ‘সিমানে’ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গড় তাপমাত্রাও দুই দশকের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সার্বিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের অগ্রগতির কারণেই মানুষের শরীরের তাপমাত্রায় এই পরিবর্তন এসেছে। অতীতে মানুষের দেহে নানা ধরনের জটিল রোগ ও সংক্রমণ লেগে থাকায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে লড়াই করতে হতো, যা বেশি ক্যালরি খরচ ও তাপ উৎপন্ন করত। এছাড়া বর্তমান সময়ে উন্নত স্যানিটেশন, টিকাদান কর্মসূচি এবং ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার ফলে দেহকে বাড়তি তাপ উৎপাদনের জন্য কোনো কসরত করতে হয় না।

তবে এই তাপমাত্রা হ্রাসের পেছনে প্রাচীন থার্মোমিটারের ত্রুটিকেও অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অনেকে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ইতিহাসবিদ ফিলিপ ম্যাকাউইয়াক উল্লেখ করেছেন যে, সেকালের কাঁচের থার্মোমিটারের পরিমাপ স্কেল আধুনিক যন্ত্রের তুলনায় বেশি ছিল এবং তাপমাত্রা মাপার পদ্ধতিও ভিন্ন ছিল। তবে পারসনেটসহ অন্যান্য গবেষকরা মনে করেন, বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের ওপর সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সত্যিই মানুষের শারীরিক তাপমাত্রায় ধারাবাহিক পরিবর্তন এসেছে।

জনপ্রিয়

বাবা হারানোর শোক সামলে জিপিএ ৫ লিজার, রিয়া হতে চান ব্যাংকার

দেড়শ বছর আগে মানুষের দেহের তাপমাত্রা বেশি ছিল, কিন্তু কেন?

প্রকাশিত ০২:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: উনিশ শতকের তুলনায় আধুনিক মানুষের দেহের গড় তাপমাত্রা অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। জার্মানির চিকিৎসক কার্ল ভনডারলিখ ১৮৬০-এর দশকে ২৫ হাজার রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে সুস্থ মানুষের গড় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট নির্ধারণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই মাপকাঠি সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। তবে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া একাধিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গত দেড়শ বছরে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ জুলিয়ে পারসনেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান প্রাপ্তবয়স্কদের নতুন গড় তাপমাত্রা ৩৬.৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রায় ৯৭.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি। এমনকি উন্নত বিশ্বের বাইরেও এই পরিবর্তনের ধারা লক্ষ্য করা গেছে। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের গবেষক আর্ড্রিয়ান জাগি জানিয়েছেন, অ্যামাজন রেইনফরেস্টের ‘সিমানে’ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গড় তাপমাত্রাও দুই দশকের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সার্বিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের অগ্রগতির কারণেই মানুষের শরীরের তাপমাত্রায় এই পরিবর্তন এসেছে। অতীতে মানুষের দেহে নানা ধরনের জটিল রোগ ও সংক্রমণ লেগে থাকায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে লড়াই করতে হতো, যা বেশি ক্যালরি খরচ ও তাপ উৎপন্ন করত। এছাড়া বর্তমান সময়ে উন্নত স্যানিটেশন, টিকাদান কর্মসূচি এবং ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার ফলে দেহকে বাড়তি তাপ উৎপাদনের জন্য কোনো কসরত করতে হয় না।

তবে এই তাপমাত্রা হ্রাসের পেছনে প্রাচীন থার্মোমিটারের ত্রুটিকেও অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অনেকে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ইতিহাসবিদ ফিলিপ ম্যাকাউইয়াক উল্লেখ করেছেন যে, সেকালের কাঁচের থার্মোমিটারের পরিমাপ স্কেল আধুনিক যন্ত্রের তুলনায় বেশি ছিল এবং তাপমাত্রা মাপার পদ্ধতিও ভিন্ন ছিল। তবে পারসনেটসহ অন্যান্য গবেষকরা মনে করেন, বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের ওপর সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সত্যিই মানুষের শারীরিক তাপমাত্রায় ধারাবাহিক পরিবর্তন এসেছে।