ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

স্ট্রোক প্রতিরোধে প্রয়োজন ৭টি পরিবর্তন

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে এবং বংশগত কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রাকৃতিকভাবে বাড়তে থাকে। তবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সচেতনতার মাধ্যমে যে কেউ এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন। মার্কিন চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, জটিল কোনো চিকিৎসা ছাড়াই পরিচিত কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখলে স্ট্রোকের মতো ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে সবার আগে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান একক কারণ হওয়ায় তা ১২০/৮০ মিমি পারদের নিচে রাখা আদর্শ। এজন্য খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া এবং নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ক্যালরি সীমিত রাখা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া স্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান ও মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। ধূমপান রক্তকে ঘন করে ধমনীতে চর্বি জমতে সাহায্য করে, যা স্ট্রোকের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ত্রিশ মিনিট করে মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম প্রাকৃতিকভাবেই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। দ্রুত হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীরের ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই নিয়মিত জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনগুলো মেনে চললে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা সম্ভব।

জরুরি মুহূর্তে স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চেনার জন্য আমেরিকার ন্যাশনাল স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের ‘ফাস্ট’ (FAST) নির্দেশিকা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুখের একপাশ ঝুলে পড়া, বাহু দুর্বল হওয়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জনপ্রিয়

ফিলিস্তিনের শিশুদের জন্য ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার

স্ট্রোক প্রতিরোধে প্রয়োজন ৭টি পরিবর্তন

প্রকাশিত ০২:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে এবং বংশগত কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রাকৃতিকভাবে বাড়তে থাকে। তবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সচেতনতার মাধ্যমে যে কেউ এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন। মার্কিন চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, জটিল কোনো চিকিৎসা ছাড়াই পরিচিত কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখলে স্ট্রোকের মতো ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে সবার আগে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান একক কারণ হওয়ায় তা ১২০/৮০ মিমি পারদের নিচে রাখা আদর্শ। এজন্য খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া এবং নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ক্যালরি সীমিত রাখা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া স্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান ও মদ্যপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। ধূমপান রক্তকে ঘন করে ধমনীতে চর্বি জমতে সাহায্য করে, যা স্ট্রোকের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ত্রিশ মিনিট করে মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম প্রাকৃতিকভাবেই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। দ্রুত হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীরের ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই নিয়মিত জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনগুলো মেনে চললে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা সম্ভব।

জরুরি মুহূর্তে স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চেনার জন্য আমেরিকার ন্যাশনাল স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের ‘ফাস্ট’ (FAST) নির্দেশিকা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুখের একপাশ ঝুলে পড়া, বাহু দুর্বল হওয়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।