আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর মাধ্যমে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি মেয়াদের জন্য দেশটির আইনসভার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকান পার্টির জন্য এটিকে একটি ঐতিহাসিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট নেতাদের অনেকেই এত বড় জয়ের কথা কল্পনা করেননি। ফলাফল প্রকাশের পর ডনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২২০টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১২৬টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজনীয় ২১৮ আসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে তারা ২৫টি নতুন আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়া টেক্সাস, ওহাইও এবং কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বিশেষ করে কানসাসে প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবার কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ভালো করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন যে তিনি এতে কিছুটা অবাক হয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ফলাফলের পেছনে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাধারণ মানুষকে জ্বালানির জন্য বেশি দাম পরিশোধ করতে হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট ছিল না বলে জানান তিনি। এছাড়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের কিছু অংশে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা এবং তাদের কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে তৃতীয় দফায় অভিশংসন করার মতো উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে তাদের সামনে। এই ক্ষমতার পালাবদল মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি সময়টিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





































