অর্থনীতি ডেস্ক: গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন মেট্রোলাইন প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয় নিয়ে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয়। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এই আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রায় সাড়ে পঁয়চল্লিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এমআরটি লাইন-৫ এর সাউদার্ন রুট প্রকল্পটির সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত এই বড় প্রকল্পটি। সিউলে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদে তিন বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল ফ্রেমওয়ার্ক পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু নির্মাণ এবং রেলওয়ের জন্য ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার মতো নানা বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠকে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক জানিয়েছে যে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের অগ্রাধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ সাপেক্ষে নতুন প্রকল্পগুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তহবিলের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট অবকাঠামো উন্নয়নকে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগ কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে যাওয়া প্রতিনিধি দলের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঋণ সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে উভয় দেশ এখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়নে অংশীদারত্ব বাড়াতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো লাভজনক খাতে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি আকর্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সার্বভৌম তহবিলকে কেন্দ্র করে এসব লাভজনক খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।





































