সারাদেশ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় ও দুর্গন্ধযুক্ত স্থান পরিষ্কার করে সবুজের সমারোহ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চরফ্যাশন পৌর কর্তৃপক্ষ। মহাসড়কের পাশের এই আবর্জনার স্তূপকে একটি দৃষ্টিনন্দন গ্রিন জোনে রূপান্তর করা হচ্ছে। গত ৭ নভেম্বর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রুমানা আফরোজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গাছ লাগিয়ে এই সবুজ জোনের শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুখারবান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হতো। এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা ময়লা ফেলার কারণে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ তৈরি হয়েছিল। দুর্গন্ধ ও দূষণের ফলে ওই সড়ক দিয়ে পথচারী ও স্থানীয় লোকজনের নিয়মিত যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল। অবশেষে এই স্থানে বৃক্ষরোপণ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটার আশা দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তনে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুন হোসাইন, পৌর লাইসেন্স পরিদর্শক মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পৌর কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর সহরাব হোসেন, পৌর টিকাদানকারী মো. মমিন এবং ইউপি সদস্য আকতার মহাজনসহ অনেকে সেখানে অংশ নেন। অতিথিদের উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উৎসাহের সঙ্গে চারা রোপণ করা হয়।
উদ্বোধনের সময় পৌরসভার প্রশাসক রুমানা আফরোজ বলেন যে পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন যে ময়লা-আবর্জনার স্থানটিকে সবুজ এলাকায় রূপান্তর করায় একদিকে যেমন দূষণ কমবে, তেমনি শহরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। এছাড়া নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পৌরসভার পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিবেশবান্ধব ও সবুজ চরফ্যাশন গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগের ফলে শুধু শহরের সৌন্দর্যই বাড়বে না, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থানটি স্থায়ীভাবে একটি সুন্দর জনপদে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পৌর প্রশাসন তৎপর রয়েছে।





































