ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

লোকজনের ফোন নম্বর যেভাবে স্প্যামারদের হাতে পৌঁছায়

প্রযুক্তি ডেস্ক: অচেনা নম্বর থেকে বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন কল ও বার্তা পাওয়ার বিড়ম্বনায় পড়েন অনেকেই। কখনো কখনো এমন সব পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন আসে, যা ব্যবহারকারী কখনো অর্ডার বা ব্যবহার করেননি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে স্প্যাম কল ও বার্তা আসার পেছনের কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিরক্তিকর যোগাযোগের প্রবাহ কমাতে ফোন নম্বর কীভাবে প্রতারকদের হাতে পৌঁছায়, তা জানা জরুরি।

স্প্যামারদের হাতে নম্বর পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে একাধিক মাধ্যম, যার কিছু ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্টে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নম্বর দেওয়ার পর ওয়েবসাইট বা সেবার ডেটাবেইজ থেকে তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অবৈধ স্বয়ংক্রিয় কল ব্যবস্থার মাধ্যমে এলোমেলো নম্বরে ডায়াল করা হয়। অনেক সময় আদালতের নথি, সম্পত্তির দলিল কিংবা কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রকাশ্য উৎস থেকেও এসব নম্বর সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

প্রতারকদের হাতে নম্বর পৌঁছানোর অন্যতম বড় একটি উৎস হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য কেনাবেচা। তথ্য সংগ্রহকারী কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলা, গ্রাহক আনুগত্য কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া কিংবা পুরস্কার জেতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীরা অজান্তেই তথ্য বিক্রির অনুমতি দিয়ে ফেলেন। কিছু ওয়েবসাইটে সেবার শর্ত হিসেবে তথ্য ভাগাভাগিতে সম্মতি দিতে বাধ্য করা হয় কিংবা বিভ্রান্তিকর চেকবক্সের কারণে ভুলবশত অনুমতি চলে যায়।

এ ছাড়া ফিশিং প্রতারণার মাধ্যমেও ফোন নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। ভুয়া লগইন পেইজ, সন্দেহজনক ওয়েবসাইট, নকল চাকরির বিজ্ঞাপন কিংবা ভুয়া অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য চলে যায় প্রতারকদের হাতে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের টেলিমার্কেটিং কল বন্ধের তালিকায় নাম নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে, তবুও দাতব্য সংস্থা, রাজনৈতিক দল বা জরিপ পরিচালনাকারীদের মতো কিছু শ্রেণির কলদাতা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকে।

স্প্যাম কল ও বার্তা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অপরিচিত বা অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনযুক্ত ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রকাশ্য প্রোফাইলে নম্বর গোপন রাখা জরুরি। অপ্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট খোলা ও নিবন্ধনের সময় সব চেকবক্সে সম্মতি দেওয়ার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি, ইমেইল ঠিকানা কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্ত কি না তা যাচাই এবং গুগলে নিজের নম্বর সার্চ করে সেটি অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

জনপ্রিয়

অন্যের আচরণে কষ্ট পাওয়া বন্ধ করার ৮ উপায়

লোকজনের ফোন নম্বর যেভাবে স্প্যামারদের হাতে পৌঁছায়

প্রকাশিত ০৪:২২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: অচেনা নম্বর থেকে বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন কল ও বার্তা পাওয়ার বিড়ম্বনায় পড়েন অনেকেই। কখনো কখনো এমন সব পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন আসে, যা ব্যবহারকারী কখনো অর্ডার বা ব্যবহার করেননি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে স্প্যাম কল ও বার্তা আসার পেছনের কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিরক্তিকর যোগাযোগের প্রবাহ কমাতে ফোন নম্বর কীভাবে প্রতারকদের হাতে পৌঁছায়, তা জানা জরুরি।

স্প্যামারদের হাতে নম্বর পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে একাধিক মাধ্যম, যার কিছু ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্টে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নম্বর দেওয়ার পর ওয়েবসাইট বা সেবার ডেটাবেইজ থেকে তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অবৈধ স্বয়ংক্রিয় কল ব্যবস্থার মাধ্যমে এলোমেলো নম্বরে ডায়াল করা হয়। অনেক সময় আদালতের নথি, সম্পত্তির দলিল কিংবা কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রকাশ্য উৎস থেকেও এসব নম্বর সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

প্রতারকদের হাতে নম্বর পৌঁছানোর অন্যতম বড় একটি উৎস হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য কেনাবেচা। তথ্য সংগ্রহকারী কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নম্বর সংগ্রহ করে তা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলা, গ্রাহক আনুগত্য কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া কিংবা পুরস্কার জেতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীরা অজান্তেই তথ্য বিক্রির অনুমতি দিয়ে ফেলেন। কিছু ওয়েবসাইটে সেবার শর্ত হিসেবে তথ্য ভাগাভাগিতে সম্মতি দিতে বাধ্য করা হয় কিংবা বিভ্রান্তিকর চেকবক্সের কারণে ভুলবশত অনুমতি চলে যায়।

এ ছাড়া ফিশিং প্রতারণার মাধ্যমেও ফোন নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। ভুয়া লগইন পেইজ, সন্দেহজনক ওয়েবসাইট, নকল চাকরির বিজ্ঞাপন কিংবা ভুয়া অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য চলে যায় প্রতারকদের হাতে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের টেলিমার্কেটিং কল বন্ধের তালিকায় নাম নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে, তবুও দাতব্য সংস্থা, রাজনৈতিক দল বা জরিপ পরিচালনাকারীদের মতো কিছু শ্রেণির কলদাতা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকে।

স্প্যাম কল ও বার্তা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অপরিচিত বা অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনযুক্ত ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রকাশ্য প্রোফাইলে নম্বর গোপন রাখা জরুরি। অপ্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট খোলা ও নিবন্ধনের সময় সব চেকবক্সে সম্মতি দেওয়ার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি, ইমেইল ঠিকানা কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্ত কি না তা যাচাই এবং গুগলে নিজের নম্বর সার্চ করে সেটি অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।