রাজনীতি ডেস্ক: ভারতের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের পতন ঘটবে বলে দৃঢ় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কক্রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কেরালার কোচিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশবাসীকে আসন্ন এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল কাঙ্ক্ষিত সরকার পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সিজেপি প্রধান দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করে তোলার জোরালো দাবি জানান। ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে মোদীর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতা ধরে রাখার দাবির বিপরীতে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন যে আগামী নির্বাচনে এই সরকারের ক্ষমতাচ্যুতি অবধারিত। একই সঙ্গে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার স্বার্থে বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরে দাঁড়ালেই নরেন্দ্র মোদীর সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ চালাচ্ছে বলে মারাত্মক অভিযোগ করেন এই রাজনৈতিক নেতা। সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রবেশ করার দায়ে দলের অপর দুই নেতার সঙ্গে তাঁর নিজের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ব্রিটিশ আমলের সঙ্গে বর্তমান মোদী সরকারের তুলনা টেনে তিনি বলেন যে সে সময়কার মতো আজও সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণের পাঁয়তারা চলছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে ভবিষ্যতে দেশের যেকোনোপ্রান্তে গিয়ে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন এবং প্রয়োজনে বারবার কারাবরণ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।
বর্তমান প্রশাসন ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস, বিবাহ, ভালোবাসার স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াটিকে আগামী নির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সিজেপি প্রধান দাবি করেন। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এই ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জনসভার সমাপনী পর্বে উপস্থিত দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তাঁর এই ভবিষ্যৎবাণী ও বক্তব্য ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।





































