ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইমোশন নয়, আইনের পথেই এগোবে সরকার’ Logo যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী Logo ভিনগ্রহ থেকে বার্তা আসবে কখন? নতুন তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা Logo সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে যেসব বিষয় বললেন রাষ্ট্রপতি Logo জেনিভা উৎসবে ‘ফিউচার ইজ সেন্সিবল’ সম্মাননা পেল ‘অ্যানি’ Logo ‘আরব দলগুলো ইসরায়েলকে ধ্বংস করবে’, ঐক্য সরকার গড়ার ডাক নেতানিয়াহুর Logo মালদ্বীপকে উড়িয়ে সেমি-ফাইনালে পাকিস্তান Logo স্বপ্নের শুরু রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে, মারেস্কা বললেন, ‘ভয়ের কিছু নেই’ Logo শীতের শাকসবজিতে মিলবে পুষ্টি, কমবে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি Logo ডেঙ্গু রোধে ঢাকা দক্ষিণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ২৯ ওয়ার্ডে অভিযান শুরু

ভিনগ্রহ থেকে বার্তা আসবে কখন? নতুন তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক: ভিনগ্রহের প্রাণীদের সন্ধান করতে এবং তারা কখন পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে তা বের করতে সম্প্রতি এক নতুন কৌশল আবিষ্কারের দাবি করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ভিনগ্রহের জীবন নিয়ে গবেষণাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সেটি ইনস্টিটিউট’-এর বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় মূলত গেইম থিওরির ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেবল ভিনগ্রহবাসীরা কোন স্থান থেকে বার্তা পাঠাতে পারে তা নয়, বরং তারা ঠিক কখন সেই বার্তা পাঠাতে পারে সেটিও অনুমান করার চেষ্টা চলছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ভিনগ্রহের বার্তা পেতে মহাকাশের সঠিক দিকে টেলিস্কোপ তাক করলেই হয় না, বার্তা মিস না করতে চাইলে সঠিক সময়েও কান পাততে হবে।

গবেষণার ভিত্তি হিসেবে গেইম থিওরির ‘শেলিং পয়েন্ট’ বা ফোকাল পয়েন্ট ধারণাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে দুটি পক্ষ সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই স্বাধীনভাবে একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মহাকাশের নির্দিষ্ট অংশ বা ‘অ্যান্টি-সোলার পয়েন্ট’ তথা সূর্য-বিপরীত বিন্দুটির ওপর নজর দিয়েছেন, যা ভিনগ্রহের বাসিন্দারাও নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারে। পৃথিবী নিয়ে গবেষণা চালানো কোনো ভিনগ্রহের কাছে পৃথিবী ওদের ও আমাদের সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করবে এবং পৃথিবী থেকে দেখলে সেই গ্রহটিকে সূর্যের বিপরীত দিকে দেখা যাবে। এর ফলে কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই উভয় পক্ষ মহাকাশের নির্দিষ্ট অংশ ও বিন্যাসটি স্বাধীনভাবে বুঝতে পারবে।

গবেষকরা ইতোমধ্যে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার হ্যাচ ক্রিক রেডিও অবজারভেটরিতে অ্যালেন টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করে এই তত্ত্বটি পরীক্ষা করেছেন এবং চার বছরে পৃথিবীর কক্ষপথের অংশ কাভার করার পরিকল্পনা করেছেন। বিপুল পরিমাণ ডেটা থেকে কাজের সিগনাল খুঁজে পেতে তারা একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি তৈরি করেছেন যা মানুষের তৈরি হস্তক্ষেপ ফিল্টার করে বাদ দিতে পারে। বড় অভিযান শুরুর আগে তারা ২০২৩ সালে তিন রাতের একটি পাইলট সার্ভে পরিচালনা করে প্রায় ১৯ লাখ ডিটেকশন বা সিগনাল ধরেছিলেন যার সবই মানুষের তৈরি হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন যে ভিনগ্রহীদের শক্তিশালী ট্রান্সমিটার থাকলে ১২৪ আলোকবর্ষ দূর থেকেও তাদের বার্তা শোনা সম্ভব হবে।

যদিও এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের কোনো সংকেত পাওয়া যায়নি, তবুও এই গবেষণাটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি মহাকাশের নির্দিষ্ট অংশে পরিচালিত প্রথম পর্যবেক্ষণমূলক অনুসন্ধান এবং ভিনগ্রহীদের খোঁজার নতুন পদ্ধতির সূচনা করেছে যা একদিন সিগনাল খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। ‘সেটি ইনস্টিটিউট’-এর গবেষক সোফিয়া শেখ জানান যে এই অ্যান্টি-সোলার পয়েন্ট কেবল একজন প্রাপক নয়, বরং সম্ভাব্য প্রেরকের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই গবেষণা মহাকাশে ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধান করার উপায় নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

জনপ্রিয়

‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইমোশন নয়, আইনের পথেই এগোবে সরকার’

ভিনগ্রহ থেকে বার্তা আসবে কখন? নতুন তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত ০৭:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: ভিনগ্রহের প্রাণীদের সন্ধান করতে এবং তারা কখন পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে তা বের করতে সম্প্রতি এক নতুন কৌশল আবিষ্কারের দাবি করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ভিনগ্রহের জীবন নিয়ে গবেষণাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সেটি ইনস্টিটিউট’-এর বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় মূলত গেইম থিওরির ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেবল ভিনগ্রহবাসীরা কোন স্থান থেকে বার্তা পাঠাতে পারে তা নয়, বরং তারা ঠিক কখন সেই বার্তা পাঠাতে পারে সেটিও অনুমান করার চেষ্টা চলছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ভিনগ্রহের বার্তা পেতে মহাকাশের সঠিক দিকে টেলিস্কোপ তাক করলেই হয় না, বার্তা মিস না করতে চাইলে সঠিক সময়েও কান পাততে হবে।

গবেষণার ভিত্তি হিসেবে গেইম থিওরির ‘শেলিং পয়েন্ট’ বা ফোকাল পয়েন্ট ধারণাটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে দুটি পক্ষ সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই স্বাধীনভাবে একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মহাকাশের নির্দিষ্ট অংশ বা ‘অ্যান্টি-সোলার পয়েন্ট’ তথা সূর্য-বিপরীত বিন্দুটির ওপর নজর দিয়েছেন, যা ভিনগ্রহের বাসিন্দারাও নিজেদের মতো করে বেছে নিতে পারে। পৃথিবী নিয়ে গবেষণা চালানো কোনো ভিনগ্রহের কাছে পৃথিবী ওদের ও আমাদের সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করবে এবং পৃথিবী থেকে দেখলে সেই গ্রহটিকে সূর্যের বিপরীত দিকে দেখা যাবে। এর ফলে কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই উভয় পক্ষ মহাকাশের নির্দিষ্ট অংশ ও বিন্যাসটি স্বাধীনভাবে বুঝতে পারবে।

গবেষকরা ইতোমধ্যে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার হ্যাচ ক্রিক রেডিও অবজারভেটরিতে অ্যালেন টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করে এই তত্ত্বটি পরীক্ষা করেছেন এবং চার বছরে পৃথিবীর কক্ষপথের অংশ কাভার করার পরিকল্পনা করেছেন। বিপুল পরিমাণ ডেটা থেকে কাজের সিগনাল খুঁজে পেতে তারা একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি তৈরি করেছেন যা মানুষের তৈরি হস্তক্ষেপ ফিল্টার করে বাদ দিতে পারে। বড় অভিযান শুরুর আগে তারা ২০২৩ সালে তিন রাতের একটি পাইলট সার্ভে পরিচালনা করে প্রায় ১৯ লাখ ডিটেকশন বা সিগনাল ধরেছিলেন যার সবই মানুষের তৈরি হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন যে ভিনগ্রহীদের শক্তিশালী ট্রান্সমিটার থাকলে ১২৪ আলোকবর্ষ দূর থেকেও তাদের বার্তা শোনা সম্ভব হবে।

যদিও এখন পর্যন্ত ভিনগ্রহের কোনো সংকেত পাওয়া যায়নি, তবুও এই গবেষণাটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি মহাকাশের নির্দিষ্ট অংশে পরিচালিত প্রথম পর্যবেক্ষণমূলক অনুসন্ধান এবং ভিনগ্রহীদের খোঁজার নতুন পদ্ধতির সূচনা করেছে যা একদিন সিগনাল খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। ‘সেটি ইনস্টিটিউট’-এর গবেষক সোফিয়া শেখ জানান যে এই অ্যান্টি-সোলার পয়েন্ট কেবল একজন প্রাপক নয়, বরং সম্ভাব্য প্রেরকের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই গবেষণা মহাকাশে ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধান করার উপায় নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দিচ্ছে।